ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

গ্রেফতার হলে যা হতে পারে ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ৩১ মার্চ ২০২৩
গ্রেফতার হলে যা হতে পারে ট্রাম্পের
ডোনাল্ড ট্রাম্প - ফাইল ছবি

নীলছবির অভিনেত্রী স্টর্মি ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধ রাখতে ঘুষ দেওয়ার জন্য মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গোপন রাখার বিনিময়ে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার অর্থ প্রদান করেন।

বিষয়টি তদন্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড জুরি ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনিই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি দেশটির ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হলেন।

Advertisement

সাবেক পর্ন তারকাকে ঘুষ দেওয়ার মামলায় এখন তার গ্রেফতার অনিবার্য। ইতিমধ্যে ট্রাম্পকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় সাবেক পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে তার পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। স্টর্মি ড্যানিয়েলসের দাবি, ২০০৬ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে এ নিয়ে মুখ না খুলতে তাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল।

আরো পড়ুন>> কে এই পর্নো তারকা, যার জন্য ট্রাম্পের সর্বনাশ

স্টর্মিকে ঘুষ দেওয়ার ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্বটি ছিল নিউইয়র্ক সিটির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি আলভিন ব্র্যাগের ওপর। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য তিনি গ্র্যান্ড জুরি গঠন করেন। গতকাল বিকেলে এ জুরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত জানায়। তবে তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আদালতে বিচারপতি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগগুলো না পড়ে শোনানো পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রকাশ করা হবে না।

ট্রাম্পের আইনজীবীরা ইঙ্গিত করেছেন, নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষকে ট্রাম্প সহযোগিতা করবেন। সুতরাং, তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে না।

অন্য আসামিদের মতো ট্রাম্পকে হয়তো সংবাদকর্মীদের সামনে দিয়ে হেঁটে হেঁটে আদালতে প্রবেশ না–ও করতে হতে পারে। বরং কৌঁসুলিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আদালত হয়তো তাকে গোপনে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারেন।

ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত অন্য আসামিদের মতো করেই ট্রাম্পের আঙুলের ছাপ নেয়া হবে এবং মুখের ছবি তোলা হবে। ট্রাম্প তার ‘মিরান্ডা রাইটস’–এ পড়বেন। এর মধ্য দিয়ে তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হবে যে সাংবিধানিকভাবে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার অধিকার তার আছে। তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।

আরো পড়ুন>> মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ভয়াবহ সব মিথ্যাচার ও প্রতারণা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত আসামিদের সাময়িকভাবে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা চেষ্টা করবেন তাদের মক্কেলের ক্ষেত্রে যেন এমনটা না হয়। এরপর আদালতে বিচারপতির সামনে না তোলা পর্যন্ত তাকে হাজতখানায় আটক রাখা হবে।

ফৌজদারি অপরাধে ট্রাম্প যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও আইন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, ট্রাম্পের জরিমানা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাকে কারাবন্দী রাখার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন তারা।

২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে আবারও প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে অভিযুক্ত হওয়া কিংবা ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও ট্রাম্প চাইলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য তার প্রচারণা চালিয়ে যেতে পারবেন। ইতিমধ্যে ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা কিছুই হোক না কেন, তিনি তার কাজ চালিয়ে যাবেন। কারণ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা তাকে প্রেসিডেন্ট হতে না দেওয়ার মতো কোনো আইন যুক্তরাষ্ট্রে নেই।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!