স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, গাজিয়ান্তেপের সেহিতকামিলের একটি অ্যাপার্টমেন্টের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আদনান মুহাম্মেত কোরকুতকে গত বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয়।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে বলে, ভূমিকম্পের সময় সে ঘুমাচ্ছিল। বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ে সে। মায়ের গর্ভে ভ্রূণ যে অবস্থায় থাকে, তেমন করেই হাত–পা ভাঁজ করে সেখানে সে শুয়ে ছিল।
.png)
কোরকুত জানায়, আটকে পড়ার পর বেঁচে থাকার জন্য সে নিজের প্রস্রাব খেয়েছে। বাড়িতে থাকা ফুলগুলোও খেয়েছে।
কোরকুত আরো জানায়, ফোনে প্রতি ২৫ মিনিট পরপর অ্যালার্ম দিয়ে রেখেছিল, যেন সে ঘুমিয়ে না পড়ে। দুই দিন পর ফোনের চার্জ ফুরিয়ে যায়।
আরো পড়ুন>> পাখির সাহায্যে আদিবাসী ভাষা সংরক্ষণে অভিনব উদ্যোগ
উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছানোর পর কোরকুত তাদের গলার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিল। কিন্তু তার মনে হচ্ছিল উদ্ধারকারীদের কানে তার কণ্ঠস্বর পৌঁছাচ্ছে না। উদ্ধার তৎপরতা শেষ হওয়া পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না, তা ভেবে ভয় পাচ্ছিল সে।
অবশেষে ভূমিকম্পের চার দিন পর সে উদ্ধার হয়। কোরকুত বলেছে, ‘যে মানুষেরা এখানে এসে আমাকে বাঁচিয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’
তুরস্ক ও সিরিয়ায় গত সোমবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত মানুষের সংখ্যা এরইমধ্যে ২৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
১৯৩৯ সালের পর এটি দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। সোমবারের ভূমিকম্পে সিরিয়ায়ও এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।