বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইনের অনুমোদন দিলো চীনের পার্লামেন্ট
স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের জন্য একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অনুমোদন দিয়েছে চীনের পার্লামেন্ট। বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ আইন পরিষদ ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস স্ট্যান্ডিং কমিটিতে (এনপিসিএসসি) সর্বসম্মতিক্রমে আইনটি পাস হয়েছে। এ আইনের ফলে এখন থেকে অঞ্চলটির ওপর বাড়তি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পাবে বেইজিং।
এ আইনে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আঁতাঁত নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এনপিসিএসসি’র বৈঠক শুরু হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে স্ট্যান্ডিং কমিটির ১৬২ জন সদস্যের সম্মতিতে আইনটি পাশ হয় বলে জানিয়েছে চীনা সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
.png)
হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থীরা এই আইনকে অঞ্চলটির বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ নিয়ে কোনও কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অঞ্চলটির চীনা মনোনীত প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম।
এর আগে গত মাসে চীনা কর্তৃপক্ষ হংকংয়ে নতুন নিরাপত্তা আইন জারির ঘোষণা দিয়ে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থীরা। ওই ঘোষণার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে তারা।
নতুন এ নিরাপত্তা আইন হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের জন্য কোনো হুমকি নয় বলে দাবি বেইজিংয়ের।
তবে গণতন্ত্রপন্থীদের দাবি, এ আইন অঞ্চলটির বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসা রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিসমাপ্তি ঘটাবে।
ব্রিটিশ শাসন থেকে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের ২৩তম বার্ষিকী ১ জুলাই থেকে আইনটি কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের জাতীয় আইনসভায় পাশ হওয়ার আগে হংকংয়ের হাতে গোনা কয়েকজন প্রতিনিধি এ আইনের একটি খসড়া দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন।
মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, এই বিষয়টি নিয়েই বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুদূরপ্রসারি এই আইনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের নিন্দা জানিয়েছেন অনেক হংকংবাসী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ আইন সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশটি চীনের কাছে হস্তান্তরের ঠিক ২৩ বছর পর এর জীবনযাত্রার ধরনে আমূল পরিবর্তন আনার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
১৯৯৭ সালের ১ জুলাই চীনের কাছে হস্তান্তরের সময় হংকংয়ের জন্য উচ্চ মাত্রার স্বায়ত্তশাসন মঞ্জুর করেছিল বেইজিং, কিন্তু এই আইনের মাধ্যমে তা লংঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অন্যান্য পশ্চিমা সরকারগুলোর।
সূত্র: বিবিসি