আন্তর্জাতিক বাজারে আরও এক ধাপ এগিয়ে ফোনপে
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পেমেন্ট সেবা চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ফোনপে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দুটি পেমেন্ট লাইসেন্সের জন্য নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে ওয়ালমার্ট-সমর্থিত এ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ফোনপে জানিয়েছে, প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক যাচাই-বাছাইয়ের পর এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ইউএইতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে এখনো দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
.png)
রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত দুটি লাইসেন্সের আওতায় খুচরা পেমেন্ট সেবা, কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং গ্রাহকের অর্থ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে ফোনপে।
চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ার পর আঞ্চলিক ব্যাংক, লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী ও স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা ফোনপে বর্তমানে ভারতের অন্যতম পরিচিত ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে মোবাইল রিচার্জ, বিভিন্ন বিল পরিশোধ ও অর্থ লেনদেন করা যায়। ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এসব সেবা পরিচালিত হয়।
ইউএইতে লাইসেন্স পাওয়ার উদ্যোগকে ফোনপের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে কার্যক্রম শুরু করতে পারলে নতুন একটি বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে প্রতিষ্ঠানটির।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে ফোনপে তাদের প্রস্তাবিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সাময়িকভাবে স্থগিত করে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে তখন এ সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি। বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে আইপিও প্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
রয়টার্সের মার্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আইপিওর মাধ্যমে ফোনপে প্রায় ৯ থেকে ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়ন অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।
এদিকে, আইপিওসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ফোনপের অন্যতম বিনিয়োগকারী ওয়ালমার্ট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে তাদের অংশীদারত্ব প্রায় ১২ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করেছে। একই সময়ে টাইগার গ্লোবাল ও মাইক্রোসফট তাদের বিনিয়োগ পুরোপুরি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করেছে।
তবে ইউএইতে চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার পর ফোনপে ঠিক কোন কোন পেমেন্ট সেবা চালু করবে এবং কবে থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক অনুমোদন অবশ্য দেশটির বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ন্ত্রক ধাপ।