টুইটার নিয়ে ইলন মাস্ককে ইইউর সতর্কবার্তা
মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারের বিষয়বস্তুতে নিয়ন্ত্রণ রাখার ইচ্ছা রয়েছে ইলন মাস্কের। তবে ইউরোপিয় ইউনিয়নে (ইইউ) তার এ অভিপ্রায় পূরণ নাও হতে পারে। অন্যথায় তাকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
সম্প্রতি ইইউর একজন রেগুলেটন মাস্ককে সতর্ক করে বলেছেন তার মালিকানাধীন অবস্থায় টুইটারকে অবশ্যই নতুন ডিজিটাল আইন মেনে চলতে হবে। ইউরোপিয়ান কমিশনার ফর ইন্টারনাল মার্কেটের কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, মাস্ককে নিশ্চিত করতে হবে যে উস্কানিমূলক বক্তব্য, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে সম্পন্ন নতুন আইনটি টুইটার মেনে চলবে। টুইটার ক্রয়প্রস্তাবটি গ্রহণ করার পর ইলন মাস্ককে আইন বর্হিভুত এবং ক্ষতিকর বিষয়বস্তুগুলো নিয়ন্ত্রণের নীতিমালাগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। অন্যথায় সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বেন তিনি।
থিয়েরি ব্রেটন বলেছেন, ‘হোক গাড়ি অথবা সোশ্যাল মিডিয়া ইউরোপে কার্যক্রম পরিচালনাকারী যেকোন কোম্পানিকে আমাদের নিয়ম মেনে চলতে হবে। জনাব মাস্ক এ বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই জানেন। আমরা সবাইকে স্বাগত জানাই। আমরা উন্মুক্ত তবে শর্ত অনুযায়ি।’
গত সপ্তাহে ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) নামে একটি যুগান্তকারী চুক্তিতে পৌছে ইইউ। এই আইনের আওতায় টুইটারসহ শীর্ষস্থানীয় সামাজিক যোগাযোগ কোম্পানিগুলো তাদের প্লাটফর্মকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্যমুক্ত রাখতে আরো সক্রিয় থাকতে হবে। আর এই আইন মেনে না চলা হলে নিষেধাজ্ঞা বা অর্থদন্ডের মুখে পড়তে হতে পারে।
ইইউ কমিশনার থিয়েরি ব্রাটন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘কেউ যদি এই বাজার থেকে সুবিধা নিতে চায় তাহলে তাকে নিয়ম মানতে হবে। ইউরোপে কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে তথ্য, বাক স্বাধীনতা, স্বচ্ছ নীতিমালাসহ আমাদের নীতিমালা মেনে চলা হবে এ বিষয়ে টুইটারের পরিচালনা পর্ষদকে নিশ্চয়তা দিতে হবে। টুইটার যদি আমাদের এ নীতিমালা মেনে না চলে তাহলে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রয়েছে। এরমধ্যে আয়ের ৬ শতাংশ কেটে নেয়া হবে এবং এরপরেও না শোধরালে ইউরোপে নিষিদ্ধ করা হবে কোম্পরটিকে।’
বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রনের বিষয়ে মাস্ক এখনো নিজের মনোভাব পুরোপুরি প্রকাশ করেননি। উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য নিয়ে টুইটারের বর্তমান নীতিমালা তিনি পরিবর্তন করবেন কিনা সে বিষয়টিও পরিস্কার নয়। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি বলেছিলেন, বাক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে টুইটারের অগ্রাধিকারকে নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য তবে তা অবশ্যই দেশের আইনকে সম্মান জানিয়ে।