ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

হৃদরোগ প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়ামের ভূমিকা

ডা. এম ইয়াছিন আলী
প্রকাশিত: ১০:২০, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হৃদরোগ প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়ামের ভূমিকা
ফিজিওথেরাপি শুধু ব্যথা কমানোর চিকিৎসা নয়—শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ব্যায়াম এবং হৃদরোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিশ্ব হার্ট দিবসে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক—প্রতিদিন শরীরকে সক্রিয় রাখব, নিয়মিত ব্যায়াম করব এবং হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন

প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হয়। হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি কমানো এবং সুস্থ জীবনযাপনে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। হৃদরোগ প্রতিরোধে ওষুধ ও চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি ও ফিজিওথেরাপিস্টের ভূমিকা অনেকের কাছেই এখনও যথেষ্ট পরিচিত নয়।

হৃদরোগ প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা কী?

ফিজিওথেরাপি শুধু ব্যথা বা পেশি-জয়েন্টের সমস্যার চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যায়ামভিত্তিক পুনর্বাসন এবং নিরাপদভাবে দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর শারীরিক সক্ষমতা, হাঁটার সামর্থ্য, পেশিশক্তি, ভারসাম্য, শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন ও দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করে ব্যক্তিভেদে উপযুক্ত ব্যায়াম পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হঠাৎ কঠোর ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

Short-Term Rehab: Cardiopulmonary Rehabilitation | Avon Health Center

কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন হৃদরোগে ফিজিওথেরাপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। হার্ট অ্যাটাক, এনজিওপ্লাস্টি, বাইপাস সার্জারি বা অন্যান্য হৃদ্‌যন্ত্রের চিকিৎসার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন সহায়তা করে। এতে নিয়ন্ত্রিত হাঁটা, অ্যারোবিক ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর ব্যায়ামের মাত্রা, সময়, গতি ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে সহায়তা করতে পারেন। প্রয়োজনে ব্যায়ামের সময় হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে রোগীর জন্য ব্যায়ামকে আরও নিরাপদ ও পরিকল্পিত করা সম্ভব হয়।

হৃদরোগের অন্যতম ঝুঁকি হলো শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। তাই যারা অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, তাদের জন্য ফিজিওথেরাপিস্ট কর্মক্ষেত্রভিত্তিক অ্যাক্টিভিটি ব্রেক, হাঁটা, স্ট্রেচিং ও সহজ ব্যায়ামের পরিকল্পনা দিতে পারেন। দীর্ঘ সময় বসে থাকার পরিবর্তে নির্দিষ্ট বিরতিতে দাঁড়ানো, হাঁটা এবং শরীর সক্রিয় রাখার অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

এছাড়া অতিরিক্ত ওজন, পেশিশক্তির ঘাটতি, চলাফেরায় সমস্যা বা দীর্ঘদিনের শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারছেন না, তাদের জন্য ফিজিওথেরাপি ধীরে ধীরে শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

তবে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিরা নিজের ইচ্ছায় হঠাৎ উচ্চমাত্রার ব্যায়াম শুরু করবেন না। ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Benefits Physiotherapy For Post-Heart Attack Recovery

হৃদরোগ প্রতিরোধে ব্যায়ামের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহারও জরুরি।

মনে রাখতে হবে, ফিজিওথেরাপি শুধু ব্যথা কমানোর চিকিৎসা নয়—শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ব্যায়াম এবং হৃদরোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিশ্ব হার্ট দিবসে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক—প্রতিদিন শরীরকে সক্রিয় রাখব, নিয়মিত ব্যায়াম করব এবং হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় জীবনযাপন অনুসরণ করব।

সুস্থ হৃদয়, সক্রিয় জীবন—হোক আমাদের প্রত্যয়ের অংশ।

লেখক:  ডা. এম ইয়াছিন আলী
চেয়ারম্যান ও চীফ কনসালটেন্ট 
ঢাকা সিটি ফিজিওথোপি হাসপাতাল
ধানমন্ডি, ঢাকা। 
মোবাঃ ০১৭৮৭১০৬৭০২।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!