ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে উত্তাল সমুদ্রের এই অদ্ভূত ফেনা
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’-এ পরিণত হয়েছে। যেটি ক্রমশই গতি বেড়ে ভয়াবহ হচ্ছে। এমন আতঙ্কের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় শহর দিঘার সমুদ্র সৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউয়ে অদ্ভূত ফেনা দেখা গেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। তার আগে দিঘার সমুদ্রে এমন সাদা ফেনা দেখা যাওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দফতর এরইমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে, শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশা উপকূল এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে এই ফেনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা নিয়ে কিছু জানায়নি তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগে দিঘার সমুদ্রে এত সাদা সাদা সাবানের মতো ফেনা কখনও দেখেননি। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে এই ফেনার কোনও সম্পর্ক আছে কি না তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে সমুদ্র বিজ্ঞানী আনন্দদেব মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, এই ঘটনা একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। এ নিয়ে ভয় পাওয়ারও কোন কারণ নেই।

তিনি বলেন, লকডাউনের ফলে সমুদ্র এখন অনেকটা দূষণমুক্ত। আগে দূষণের জন্য সমুদ্রের তলদেশের সেডিমেন্ট সমুদ্রের নিচের দিকেই থাকত। কিন্তু এখন দূষণ না থাকায় সেসব উপাদান পানির উপরের স্তরে চলে আসছে। আর আম্ফানের প্রভাবে সমুদ্রের ওপরে বাতাসের গতিবেগ এখন অনেক বেড়েছে। যার ফলে বাতাসের ধাক্কায় সমুদ্রের পানিতে উৎপন্ন হচ্ছে ফেনা। যা আছড়ে পড়ছে উপকূলে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম আম্ফান। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়তে তিন থেকে চারদিন সময় লাগবে।