বিশ্ব অক্টোপাস দিবস আজ
সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলে অক্টোপাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা কাঁকড়া, চিংড়ি ও ছোট মাছ খেয়ে সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষা করে, আবার নিজেরা বড় সামুদ্রিক মাছ ও তিমির খাদ্য হিসেবে অবদান রাখে।
অক্টোপাসের তিনটি হৃৎপিণ্ড, নীল রক্ত এবং হাড়বিহীন শরীর রয়েছে। আটটি বাহুর প্রতিটিতে রয়েছে স্বতন্ত্র স্নায়ুতন্ত্র। এরা দ্রুত গায়ের রং ও ত্বকের গঠন বদলে পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

- আজ ৮ অক্টোবর, বিশ্ব অক্টোপাস দিবস। প্রতি বছর ৮ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে বিশ্ব অক্টোপাস দিবস (World Octopus Day) পালিত হয়। প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন, রহস্যময় এবং অবিশ্বাস্যভাবে বুদ্ধিমান সামুদ্রিক প্রাণী অক্টোপাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে এদের গুরুত্ব তুলে ধরতে দিনটি পালন করা হয়।
২০০৬ সালে দ্য সেফালোপড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল এবং সামুদ্রিক জীবপ্রেমীদের উদ্যোগে এই দিবসের সূচনা হয়। ইংরেজি শব্দ অক্টোবর এবং অক্টোপাস উভয়ই এসেছে গ্রিক শব্দ অকটো থেকে, যার অর্থ আট। অক্টোপাসের আটটি বাহুর সঙ্গে মিল রেখেই বছরের অষ্টম মাসের অষ্টম দিনটিকে এই দিবসের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
অক্টোপাসের বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অক্টোপাস হল বৃহত্তম প্রজাতি এবং এদের ওজন 600 পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। সবচেয়ে ছোট প্রজাতি হল ডোয়ার্ফ বা বামন অক্টোপাস। এরা মাত্র দুই ইঞ্চি লম্বা হয়। সারা বিশ্বে উষ্ণ জলে পাওয়া যায় অক্টোপাসদের। তারা সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে বাস করে, যেখানে খাবার ও আশ্রয় খুঁজে পেতে পারে।
ব্লু-লাইন্ড অক্টোপাস বা নীল বলয়যুক্ত অক্টোপাসের প্রেমের গল্পটি একটু বেশিই নাটকীয় ও ভয়ঙ্কর।

সাধারণত এই প্রজাতির ক্ষেত্রে মিলনের পর পুরুষ অক্টোপাসটি পরিণত হয় স্ত্রী অক্টোপাসের আহারে। তবে প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর নিয়ম এড়াতে পুরুষ অক্টোপাসরা বেছে নিয়েছে এক অবিশ্বাস্য কৌশল। স্ত্রী অক্টোপাসের প্রাণঘাতী ক্ষুধা থেকে বাঁচতে পুরুষ অক্টোপাস বিষ ঢেলে সঙ্গীকে অবশ করে দেয়। সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে আসে এ তথ্য।
সেই ক্ষুধা মেটাতে সে নিজের মিলন সঙ্গীকে শিকার করা শুরু করে। পুরুষ অক্টোপাসগুলো আকারে অনেক ছোট হওয়ায় স্ত্রী অক্টোপাসটির জন্য এটি একটি সহজ আহার হয়ে ওঠে। প্রকৃতির নিয়মে স্ত্রী অক্টোপাস নিজের প্রজনন ও ডিম সুরক্ষার স্বার্থে পুরুষটিকে খেয়ে ফেলে।
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের গবেষক ফ্যাবিও কোর্তেসি মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআরের আইশা রাসকোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই গবেষণার বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, ডাইনোসরদের যুগেরও আগে, প্রায় ৩০ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে অক্টোপাসের অস্তিত্ব রয়েছে। অক্টোপাসকে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। এরা ধাঁধা সমাধান করতে পারে, জটিল বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় নিজেদের বুদ্ধির প্রমাণ দিয়েছে এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক শৈবাল বা খোলস ব্যবহার করে আত্মরক্ষা করতে পারে।

অক্টোপাসরা আশ্চর্যজনক প্রাণী। তারা বুদ্ধিমান, চারপাশের সঙ্গে মিশে চেহারা পরিবর্তন করতে পারে এবং তাদের আটটি বাহু রয়েছে।
পৃথিবীর সব মহাসাগরেই অক্টোপাসদের দেখা মেলে। এরা আকারে বিভিন্ন রকমের এবং রঙের হতে পারে। কিছু কিছু অক্টোপাস আবার মার্কিন মুদ্রা ডাইমের মতো ছোট, অন্যরা 30 ফুটের বেশি লম্বা হতে পারে।
অক্টোপাসরা নিজেদের রং এবং ত্বকের গঠনও পরিবর্তন করতে পারে। এর মাধ্যমে তারা শিকারীদের থেকে নিজেদের আড়াল করতে পারে।
এদের তিনটি হৃৎপিণ্ড এবং নীল রঙের রক্ত থাকে। এদের কোনো হাড় বা কঙ্কাল নেই, যার ফলে এরা যে কোনো সরু জায়গা দিয়ে অনায়েসে যাতায়াত করতে পারে।

- অক্টোপাসের কেন্দ্রীয় মস্তিষ্কের পাশাপাশি এদের প্রতিটি বাহুতে বা পায়ে আলাদা স্নায়ুতন্ত্র বা মিনি-মস্তিষ্ক থাকে। ফলে প্রতিটি বাহু স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে পারে। এরা মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে নিজেদের গায়ের রং এবং চামড়ার গঠন পরিবর্তন করে চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
আজ থেকে ২ হাজার ৪০০ বছর আগে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল সর্বপ্রথম অক্টোপাসের রং পরিবর্তনের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করেন। তিনি সেসময় এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারেননি। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অক্টোপাস নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। ফলে বিস্ময়কর এই প্রাণীটির ব্যাপারে নানা তথ্য জানা যাচ্ছে।

পৃথিবীতে প্রায় ১৪০০ প্রজাতির অক্টোপাস আছে। পুরো পৃথিবীজুড়েই এদের দেখা মেলে। সাধারণত উষ্ণ পানির সমুদ্রের তলদেশে এরা বাস করে। আকারে দুই ইঞ্চি থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে অক্টোপাস।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে অক্টোপাস ভ্যালগারিস, ক্যালিস্টোক্টোপাস ম্যাক্রোপাস, সিস্টোপাস ইন্ডিকাস, অ্যামফিওক্টোপাস ফ্যাংসিয়াও ইত্যাদি প্রজাতির অক্টোপাস পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে অক্টোপাস ভ্যালগারিস ও ‘ওল্ড ওম্যান অক্টোপাস’ নামে পরিচিত সিস্টোপাস ইন্ডিকাস। এরা সাধারণত বঙ্গোপসাগরের লোনা জলে, তলদেশের বেলে বা কাদা মাটিতে থাকে। মাটি, প্রবাল ও পাথুরে অঞ্চলে এরা বাস করে। এরা অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। নিজেদের শরীরের রং ও ত্বক দ্রুত পরিবর্তন করতে পারে।