একা থাকা মানেই- একাকী থাকা নয়
জীবনের পূর্ণতা কেবল কারও সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। সিঙ্গেল থাকার মাঝেও রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। কারণ নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না। নিজের পছন্দের জায়গায় একাই ঘুরে বেড়ানো, পছন্দের খাবার খাওয়া, গভীর রাত পর্যন্ত প্রিয় গান শোনা কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগও পাওয়া যায়।
সিঙ্গেল থাকার কারণে অনেকে প্রায়ই মন খারাপ করেন। তারা একে নেতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু এমনটি মোটেও মন্দ নয়। একা থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিজের প্রতি মনোনিবেশ করতে পারা। নিজের ক্যারিয়ারে মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নিজের কাজে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া যায়। তবে সিঙ্গেল থাকার ভালো-মন্দ দুটো দিকই আছে। স্থান-কাল-পাত্র ভেদে বাস্তবতা ভিন্নরকম হওয়াটাই বরং স্বাভাবিক।
এমনকি পৃথিবীর দেশ ভেদে সিঙ্গেল লাইফের বাস্তবতা ভিন্নরকম হয়ে থাকে। সিঙ্গেল লাইফের ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের বাস্তবতা আর বাংলাদেশের বাস্তবতা একরকম নয়। আবার নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল লাইফের জীবনের বাস্তবতা ভিন্নতর হয়ে থাকে। পুরো বিষয়টা নির্ভর করে রাষ্ট্র ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর।
.png)

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, সিঙ্গেল দিবস। যারা সিঙ্গেল আছেন তাদের জন্য আজকের দিনটি উদযাপনের দিন। রিড নামক এক ব্যক্তি দিনটির প্রচলন করেন। শুরুতে অবশ্য পয়লা জানুয়ারি পালন করা হতো। পরে ২০১৭ সাল থেকে এটি ২৩ সেপ্টেম্বর পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটি পালিত হয়। চীনে পালিত হয় ১১ নভেম্বর।
কারও জীবনে ভালোবাসার মানুষটি পাশে আছে, আবার কেউ নিজের মতো করেই জীবন কাটাচ্ছেন। কেউ দুজন মিলে স্বপ্ন সাজাচ্ছেন, আবার কেউ একাই নিজের গল্প লিখে চলেছেন। তবে সিঙ্গেল থাকা মানেই জীবন অসম্পূর্ণ—এমনটা নয়। বরং অনেক সময় সিঙ্গেল থাকাটাই হয়ে উঠতে পারে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ।
সিঙ্গেল ডে কীভাবে এলো?
ডেজ অব দ্য ইয়ারের তথ্য অনুসারে, এটি চীনা ছুটির দিন ও নানজিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভূত। ধারণা করা হয়, ১৯৯০–এর দশকে একা থাকা মানুষদের জন্য প্রথম সিঙ্গেল ডে উদযাপন করা হয়। ১১ নভেম্বর এমন তারিখ যেখানে ৪টি এক আছে। তাই মনে করা হয় তারিখটি ৪টি একক ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। এজন্যই দিনটিকে সিঙ্গেল ডে হিসেবে প্রচলন করেন নানজিং বিশ্ববিদ্যালয় ৪ শিক্ষার্থী।
ধারণাটি পরবর্তীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত চীনের মূলধারার সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে যায়। এই ছুটির দিনে চীনের অনেক মানুষ আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করেন, শপিং করেন, ঘুরে বেড়ান। শুধু কী তাই, চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় কেনাকাটার দিনগুলোর একটি হয়ে উঠেছে সিঙ্গেল ডে।

একা থাকারও আছে স্বাস্থ্য উপকারিতা
সঙ্গী থাকা স্বাস্থ্য ও মন দুটোর জন্য ভালো। বিভিন্ন গবেষণায় দেখানো হয়েছে, বিবাহিতরা স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সুবিধা পান। তবে জানলে অবাক হবেন সিঙ্গেল বা একা থাকারও আছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। অনেকেরই ধারণা, একা থাকলে মানুষের হতাশা বাড়ে ও কর্মস্পৃহা কমে।
এ ধারণা একদম ভুল, কারণ গবেষণা বলছে যারা একা থাকেন তারাই বরং বেশি ভালোভাবে বাঁচেন। যদিও বা জীবনে চলার পথে একজন ভালোবাসার মানুষকে পাশে পাওয়াও অনেক জরুরি। বিভিন্ন বিপদ, অসুখ, ভালো-মন্দের বিষয়ে কথা বলা কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও একজন সঙ্গীর প্রয়োজন হয়।
তবে যাদের সঙ্গী নেই, তারা কী দুঃখে কষ্টে জর্জরিত হয়ে বাঁচবেন? মোটেও নয়, কারণ বিভিন্ন গবেষণা বলছে সিঙ্গেলরাই বেশি স্বাধীন জীবন কাটান মিঙ্গেলদের তুলনায়। এমনকি একা থাকার কারণে তারা স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সুবিধাও ভোগ করেন। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক-
এ বিষয়ে ভারতের লখনউয়ের হেলথকেয়ার ক্লিনিকের ক্লিনিকেল সাইকোলজিস্ট ডা. তনু চৌধুরী ২০১৫ সালের এক সমীক্ষা অনুসারে জানান, বিবাহিতদের তুলনায় অবিবাহিতরা বন্ধু ও পরিবারকে বেশি সময় দিতে পারেন।

এছাড়া তাদের নেটওয়ার্কও ভালো। যারা সঙ্গী ছাড়া আছেন তারা নিজের কাজ ও পরিবারের বিষয়ে অন্যদের চেয়ে বেশি যত্নশীল ও মনোযোগী।
>> সিঙ্গেলদের জীবনে চাপ কম থাকে। এটি কেবল সম্পর্কের কারণে নয়, আর্থিকভঅবে তারা চাপমুক্ত থাকেন বিবাহিতদের তুলনায়। অবিবাহিত নিজের জন্য ও পরিবারের জন্য উপার্জন করেন।
অন্যদিকে বিবাহিতরা নিজ সংসারের চাপে পড়ে কেবল উপার্জন নিয়েই ভাবেন। এতে মানসিক চাপ বাড়ে। আবার সিঙ্গেলরা আর্থিকভাবে চাপমুক্ত থাকায় মানসিকভাবেও সুস্থ থাকেন।
>> ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুসারে, সিঙ্গেলদের জিমে যোগদানের হার সবচেয়ে বেশি।
বিশেষ করে পুরুষরা যখন অবিবাহিত থাকেন, তখন তারা স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও সচেতন থাকেন। এতে কার্ডিয়াক সমস্যা, স্থূলতা ও শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত থাকেন সিঙ্গেলরা।
>> ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ঘুমের জন্য ঘরের পরিবেশও স্বস্তিদায়ক হওয়া উচিত। যদিও বিবাহিতরা সঙ্গীর সঙ্গে বিছানা ভাগাভাগি করে নেন।
তবে অনেকেই পাশে কেউ থাকলে ভালোভাবে ঘুমাতে পারেন না। তবে এদিক দিয়ে সিঙ্গেলরা নিশ্চিন্তে থাকেন। তারা নিশ্চিন্তে গভীরভাবে ঘুমাতে পারেন।
>> আপনি যখন কোনো সম্পর্কের মধ্যে থাকেন, তখন বারবার সঙ্গীর খোঁজ নিতে হবে ও সেই অনুযায়ী সময় বের করতে হবে।
সবদিক বিবেচনা করে নিজের জন্য সময় বের করা বেশ মুশকিল হয়ে উঠবে। তবে আপনি একা হলে এ বিষয় নিয়ে বেশি চিন্তা করতে হবে না। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
>> বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা বিয়ের আগেই বেশি সুখী থাকেন। এটি পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সিঙ্গেল থাকা অবস্থায় পুরুষরা তুলনামূলকভাবে নারীর চেয়ে বেশি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন।
ফলে তারা বেশি সুখীও থাকেন। তাই সিঙ্গেলরা সময় মন খারাপ না করে বরং স্বাধীনভাবে দিন কাটান।