ঢাকা,  রোববার   ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

দুই হাজার বছরের পুরোনো নাইফ ম্যাসাজ

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:১১, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১
দুই হাজার বছরের পুরোনো নাইফ ম্যাসাজ
ছবি: নাইফ ম্যাসাজ

প্রত্যেক মানুষের একটা ইচ্ছে থাকে। যেমন, বিদেশ ঘুরতে যাওয়ার কিংবা পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া। বিশেষত বাঙালি তো ঘুরতে যাওয়ার নাম শুনলেই মনে মনে একবার বিদেশ- বিভূঁইয়ের মানস ভ্রমণ সেরে নেয়। চেনা গন্ডী ছেড়ে বিদেশে বেড়াতে যাবার কারণ হিসেবে অনেকেই দৈনন্দিন ব্যস্ততা ছেড়ে বিশ্রাম গ্রহণকেই প্রধান হিসেবে ব্যক্ত করেন। 

আর বিশ্রাম গ্রহণের অন্যতম একটি দিক হল রকমারি ম্যাসাজ। বিদেশের বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজে সংশ্লিষ্ট দেশের ঐতিহ্যশালী ম্যাসাজ ট্যুরও একটি অন্যতম আইটেম। বহু পর্যটক সেই দেশের বিখ্যাত ম্যাসাজ নিতে পছন্দ করেন। বিভিন্ন প্রকার ম্যাসাজের মধ্যে চপিং স্টাইল ম্যাসাজ বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয়।

নাইফ ম্যাসাজ এভাবে করা হয় তবে তাইওয়ানে দুই হাজার বছরের পুরোনো এই ম্যাসাজে চপিং এর সময়ে সত্যিকারের চপারই ব্যবহার করা হয়। এই ম্যাসাজের আরেক নাম নাইফ ম্যাসাজ বা ছুরি ম্যাসাজ। অবশ্যই এই ম্যাসাজ যারা নেবেন তাদের মধ্যে যথেষ্ট মনের জোর এবং অ্যাডভেঞ্চারের মনোভাব থাকতে হবে, তা না হলেই বিপদ। 

Advertisement

তবে প্রথমে বিষয়টি বেশ আশঙ্কাজনক মনে হলেও পরে দেখা যায় যে ম্যাসাজ গ্রহণকারী ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর এই ঘুমিয়ে পরার ম্যাসাজের ফলাফল উৎকৃষ্ট। চীনের তাইওয়ানে জনপ্রিয় এই ম্যাসাজ প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো। গবেষকরা বলেন চৈনিক সন্ন্যাসীরা প্রথম এই ম্যাসাজের প্রবর্তন করেন।

নাইফ ম্যাসাজ প্রশিক্ষণ দেয় এভাবে তারপর জাপানের ট্যাং সাম্রাজ্যে এই ম্যাসাজের প্রচলন হয়। এরপর ১৯৪০ সাল নাগাদ তাইওয়ানে আবারো বিশ্বযুদ্ধের হাত ধরে প্রচলন হয় এই ম্যাসাজের। দুই হাজার বছরের পুরোনো এই ম্যাসাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় দাও লিয়াও এডুকেশনাল সেন্টারে। প্রায় চার দশক ধরে এই ম্যাসাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

এই প্রশিক্ষণ ফলে বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের উৎকৃষ্ট ম্যাসাজ পরিষেবা প্রদান করতে পারেন। তাইওয়ানে এই সেন্টারের মোট ৩৬টি শাখা আছে। এছাড়াও জাপান, হংকং, ফ্রান্স, কানাডা থেকেও অসংখ্য শিক্ষার্থী এই সেন্টারে ঐতিহ্যবাহী নাইফ ম্যাসাজ বা নাইফ থেরাপি শিখতে আসেন।

নারী-পুরুষ একসঙ্গে নাইফ ম্যাসাজ করছেন শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি নিয়ম আছে। যেমন থেরাপি প্রদানকারীর কেউ যদি বিষন্ন থাকেন তবে তিনি ম্যাসাজ পরিষেবা প্রদান করতে পারবেন। কারণ এতে যিনি পরিষেবা গ্রহণ করছেন তার মধ্যেও ঋণাত্মক শক্তি সঞ্চারিত হবে। এর ফলে ম্যাসাজের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।

যে পর্যটকরা এই পরিষেবা গ্রহণ করেন তাদের বেশিরভাগই অত্যন্ত সন্তুষ্ট। জনৈক পরিষেবা গ্রহণকারী জানাচ্ছেন যে আগে তাদের মধ্যে পরিমান মতো ঘুমের অভাব ছিল। এই ম্যাসাজ নেবার ফলে তাদের সেই অসুবিধা দূর হয়েছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!