ঢাকা,  শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

পুরুষ নির্যাতন- নীরব কেন?

আনোয়ার মোরছালিন
প্রকাশিত: ১৪:৩২, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পুরুষ নির্যাতন- নীরব কেন?
একজন নারী বা পুরুষ victim এর অভিজ্ঞতাকে উপহাস করবেন না। কারণ নির্যাতনের কোন gender নেই। কষ্টের কোন gender নেই। আর সাহায্য চাওয়ারও কোনো gender নেই।

পুরুষ মানুষ আবার নির্যাতিত হয় নাকি? বাংলাদেশে একজন পুরুষ যদি বলে, আমার স্ত্রী আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে, আমাকে অপমান করে, আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে, আমাকে হুমকি দেয় তাহলে অনেক সময় তার প্রথম সমস্যাটি নির্যাতন নয়।

তার প্রথম সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, মানুষ তাকে বিশ্বাস করবে কি না! কারণ আমাদের সমাজ পুরুষকে শিখিয়েছে পুরুষ কাঁদে না, পুরুষ দুর্বল হয় না, পুরুষ সব সহ্য করবে, পুরুষের সংসার সামলাতে না পারা মানেই ব্যর্থতা। কিন্তু বাস্তবতা হল তারও ভয় আছে, অপমান আছে, কষ্ট আছে, সীমা আছে।

বাংলাদেশে কত পুরুষ নির্যাতনের শিকার?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি data gap রয়েছে। বাংলাদেশে নারীর ওপর সহিংসতা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বড় এবং প্রতিনিধিত্বশীল গবেষণা হয়েছে। BBS ও UNFPA এর 2024 Violence Against Women Survey তে ২৭,৪৭৬ জন ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারী অংশ নিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে সংজ্ঞায়িত IPV measures অনুযায়ী ৭৬% নারী জীবনে কোন না কোন intimate partner violence এর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে, আর ১২ মাসে এই হার ছিল ৪৯%। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ৬২% survivor বলেছেন, তারা নির্যাতনের কথা কাউকে জানাননি। এটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় কারণ অনেক victim report করে না।

Advertisement

কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে?
বাংলাদেশে পুরুষ victim দের নিয়ে একই ধরনের nationally representative prevalence survey এখনো নেই। অর্থাৎ আমরা নির্ভরযোগ্যভাবে বলতে পারিনা বাংলাদেশের কত শতাংশ পুরুষ স্ত্রী বা partner এর দ্বারা নির্যাতিত। তাই social media তে প্রচলিত কোন  random percentage দিয়ে বাংলাদেশে পুরুষ নির্যাতনের হার দাবি করা বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক হবে না।

তাহলে কি পুরুষ নির্যাতনের কোন documented evidence নেই?
আছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চে Constitution Watchdog এর Violence Against Men Monitor ৩০টি verified incident নথিভুক্ত করেছে। তাদের প্রতিবেদনে ৭ জন পুরুষের মৃত্যু, ৬ জন পুরুষের intimate partner related mutilation এবং ১০ জন male child এর sexual abuse এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি ৩০টি incident দিয়ে বাংলাদেশের পুরুষ নির্যাতনের prevalence বুঝা সম্ভব নয়।  এটি একটি organisation এর documented incident monitoring, national population survey নয়।

পুরুষরা কেন নির্যাতনের কথা বলতে পারে না?
এখানেই বিষয়টি শুধু নির্যাতন নয়, এটি psychology, social conditioning এবং stigma এর বিষয়। Toxic masculinity নয়, traditional masculinity norms.
পুরুষ মানেই শক্ত, এই ধারণা অনেক ছেলেকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়। ফলে vulnerability প্রকাশ করা তাদের কাছে shameful মনে হতে পারে। আমি ভয় পেয়েছি বলা কঠিন। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি বলা আরও কঠিন। আর আমার স্ত্রী আমাকে নির্যাতন করছে বলাটা অনেকের কাছে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

Ridicule এর ভয়।
একজন পুরুষ তার বন্ধুকে যদি বলে, আমার স্ত্রী আমাকে মানসিকভাবে abuse করে। উত্তর আসতে পারে বউকে সামলাতে পার না? তুমি কেমন পুরুষ? তোমার নিশ্চয়ই দোষ আছে। একটি হাসি বা sarcastic comment ই কখনো কখনো একজন মানুষকে আবার বছরের পর বছর চুপ করিয়ে দিতে পারে।

আমাকে কেউ বিশ্বাস করবে না এই ভয়।
Male victim এর একটি বড় psychological barrier হতে পারে anticipated disbelief. সে ভাবতে পারে পুলিশ কি আমার কথা বিশ্বাস করবে? পরিবার কী বলবে? বন্ধুরা হাসবে না তো? মানুষ কি বলবে আমি পুরুষ হয়েও বউয়ের কাছে নির্যাতিত? ফলে সে চুপ থাকে।
সন্তান হারানোর ভয়।

বিশেষ করে marital conflict এর ক্ষেত্রে অনেক পুরুষ ভাবে আমি যদি বিষয়টি প্রকাশ করি, সন্তানদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না তো? এই fear তাকে abusive relationship এ থেকেও যেতে বাধ্য করতে পারে।
Economic ও social dependency।

সব পুরুষই যে financial controller এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। কিছু পুরুষ relationship, housing, family structure বা financial arrangement এর ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। তাই পুরুষ চাইলে চলে যেতে পারে এই ধারণাটিও সব পরিস্থিতিতে সত্য নয়। 
Emotional support network এর অভাব।

অনেক পুরুষের বন্ধু আছে। কিন্তু trusted emotional space নেই। আড্ডা আছে, business discussion আছে, sports discussion আছে কিন্তু একজন বন্ধু আরেকজনকে খুব কমই বলে তুমি কেমন আছ, সত্যি করে বল। এখানেই emotional isolation শুরু হয়।

পুরুষ নির্যাতন দেখতে কেমন হতে পারে?
নির্যাতন মানেই শুধু মারধর নয়। একজন পুরুষেরও Physical violence, Emotional abuse, Constant humiliation, Verbal abuse, Controlling behaviour, Financial control, Social isolation, Threats, Sexual coercion, Digital harassment, Blackmail এর experience হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে Children কে leverage হিসেবে ব্যবহার, False accusation এর ভয় দেখান ইত্যাদি অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় কিছু abuseএর কোন visible wound থাকে না। কিন্তু psychological wound বাস্তব।

একটি ভুল ধারণা ভাঙা দরকার।
পুরুষ নির্যাতনের কথা বলা মানে নারী নির্যাতনকে ছোট করা নয়। বরং আমাদের principle হওয়া উচিত Violence is wrong, whoever the victim is, whoever the perpetrator is. নারী victim হলে তাকে বিশ্বাস, নিরাপত্তা ও support দিতে হবে। পুরুষ victim হলেও তাকে একই মানবিক মর্যাদা দিতে হবে। Victim এর gender বদলালে তার কষ্টের মূল্য বদলে যেতে পারে না।

তাহলে সমাধান কী?
১. Male victimisation নিয়ে national research দরকার। BBS বা অন্য competent research institutions এর মাধ্যমে nationally representative, gender inclusive violence survey প্রয়োজন। যাতে আমরা অনুমান নয় evidence দিয়ে কথা বলতে পারি।

২. Confidential reporting system দরকার।
পুরুষ যেন ভয় না পেয়ে বলতে পারে আমি নির্যাতনের শিকার। প্রয়োজনে confidential counselling, legal guidance এবং safety planning-এর ব্যবস্থা থাকা দরকার। ছেলেদের দের emotional literacy শেখাতে হবে, ছেলেদের শেখাতে হবে কাঁদা দুর্বলতা নয়। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়। Boundary নির্ধারণ করা selfishness নয়। নিজের কষ্ট প্রকাশ করা masculinity এর বিরুদ্ধে নয়।

৩. Relationship education দরকার।
Healthy relationship এর ভিত্তি Respect + Communication + Consent + Boundaries + Accountability. স্বামী হোক বা স্ত্রী কেউই অন্যজনকে ভয় দেখানো, অপমান করা, নিয়ন্ত্রণ করা বা আঘাত করার অধিকার রাখে না।

৪. Gender neutral justice দরকার।
অভিযোগের ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষ কাউকেই শুধু gender এর ভিত্তিতে automatically guilty বা innocent ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন Evidence + Context + Fair investigation + Due process
আর আমাদের প্রত্যেকের কিছু করার আছে।

আপনার পরিচিত কোন পুরুষ যদি একদিন বলে আমি ভাল নেই। তাকে সঙ্গে সঙ্গে বলবেন না পুরুষ হয়ে এসব বলছ কেন? বরং বলুন বলুন। আমি শুনছি। হয়ত সেই একটি বাক্যই তার বহু বছরের silence ভাঙতে পারে।

শেষ প্রশ্ন তিনটি আপনার জন্য।
১. একজন পুরুষ যদি নির্যাতনের শিকার হয়, আমরা কি তাকে একই empathy দিয়ে শুনি?
২. আমরা কি male victim কে সাহায্য করতে চাই নাকি প্রথমে তাকে prove করতে বলি যে সে যথেষ্ট পুরুষ?
৩. আমাদের দেশে নারী ও পুরুষ উভয় ধরনের victimisation নিয়ে আরও evidence-based research দরকার কি না?

কিন্তু একজন নারী বা পুরুষ victim এর অভিজ্ঞতাকে উপহাস করবেন না। কারণ নির্যাতনের কোন gender নেই। কষ্টের কোন gender নেই। আর সাহায্য চাওয়ারও কোনো gender নেই।

লেখক : আনোয়ার মোরছালিন
রিলেশনশীপ, মেন্টাল হেলথ এন্ড লাইফ কোচ
অ্যাপয়নমেন্ট : 01760452089
আরো তথ্য জানতে : https://www.facebook.com/anwarmorsalin

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!