দেশের ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা অঞ্চলে বন্যার সময় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী কর্মকর্তা কর্মচারী ৮ লক্ষাধিক টাকার ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন বন্যার্তদের মাঝে। বন্যা পরবর্তীতে কৃষি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তখনই ধানের বীজ বপন, সবজীর বীজ বপন ও কাজী ফার্মস এর সঙ্গে যোগাযোগ করে খামারিদের জন্য মুরগির বাচ্চার ব্যবস্থা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।
কৃষি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় তিন ধাপে প্রায় ৮ হাজার সবজির চারা, ১০ একর জায়গায় চাষ উপযোগী ধানের চারা, চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার কীটনাশক ও ১০ হাজার মুরগির বাচ্চা বিতরণ করা হয়।
.png)
মূলত দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে বিপুল সংখ্যক ফসলাদি নষ্ট হওয়ায় বড় ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। দেশের এই সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে কৃষি এবং কৃষককে পুর্নবাসনে বিনামূল্যে চাষ যোগ্য ধানের চারা সরবরাহের উদ্দ্যোগ নেয় শেকৃবি। কর্মসূচির তৃতীয় ধাপে চারশ’ কেজি ধানের বীজ থেকে উৎপাদিত ১০ একর জমিতে চাষযোগ্য ধানের চারা, প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক এবং পাঁচ হাজার মুরগির বাচ্চা কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পৌঁছে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
এই কার্যক্রমকে সফল করার উদ্দেশ্য গত ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (DAE) সহায়তায় বীজ সংগ্রহ ও বিশ্ববিদ্যালের গবেষণা মাঠে ধানের চারা উৎপাদন শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাছাড়াও বর্তমানে সবজি ও ফসলের চারা উৎপাদনের কাজ চলমান রয়েছে যা অতিদ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের শেকৃবি সমন্বয়ক তৌহিদ আহমেদ বলেন, ৫ আগস্টের পরে আমাদের সামনে দেশ সংস্কারের পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হই। ফেনী, নোয়াখালীর বন্যার ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়। আমরা পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস চাষ পুনর্বাসনে কাজ করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়। আশা করি তাদের এই উদ্যোগ খাদ্য সংকট মোকাবিলায় অনেকাংশে ভূমিকা রাখবে।
শেকৃবি কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মহৎ এই উদ্দ্যোগ খাদ্য সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করি। তা বাস্তবায়নে শিক্ষকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। আমরা ও আমাদের শিক্ষার্থীরা সাধ্য অনুযায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুর্নবাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছি।
এ বিষয়ে শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দুর্যোগ পরবর্তী কৃষি ও প্রাণিসম্পদ পুনর্বাসন দায়িত্ব হিসেবেই কাজ গুলো করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের অনেক সহযোগিতা আমরা পাঠাতে পেরেছি। এছাড়াও আমরা দুর্যোগ সংক্রান্ত সহযোগিতা বিষয়ে একটা ফান্ড করেছি, যার মাধ্যমে পরবর্তী যেকোনো দুর্যোগে দেশের মানুষের সহযোগিতায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে আসবে।