২৮ আগস্ট (বুধবার) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে গণজমায়েত ও মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক ভবন এরিয়া প্রদক্ষিণের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা স্লোগানে বলেন, ‘তুমি কে আমি কে, আদু ভাই, আদু ভাই। আদু ভাইয়ের কান্না, আর না- আর না। কী চাই- কী চাই, ক্লাস চাই ক্লাস চাই।’
.png)
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ সরকারের পতনের পরে দেশ সংস্কারে শিক্ষার্থীরা ভূমিকা রাখছে। ট্র্যাফিক, বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজে আমাদের অংশগ্রহণ থাকলেও আমাদের অ্যাকাডেমিক সংস্কার এখনো হচ্ছে না। ক্লাস-পরীক্ষা এখনো বন্ধ হয়ে আছে। কবে নাগাদ শুরু হবে সেই নিশ্চয়তা নেই। আমাদের শিক্ষকরা অন্তত আমাদের অ্যাকাডেমিক বিষয়ের সংস্কারের দায়িত্ব নিতে পারেন। উপাচার্য ছাড়াও ক্লাস শুরু হওয়া সম্ভব, এই বিষয়ে আমরা অবগত। তাহলে কোন শক্তি এখনো আমাদের ক্লাস পরীক্ষা শুরু হওয়াকে আটকে রাখছে...?
ঐ শিক্ষার্থী আরো বলেন, আমরা চাই আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা দ্রুত শুরু হোক। আমাদের শিক্ষকরা এ বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করুক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম বলেন, আমি মূলত আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছি, যাতে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যায়। মূলত অধিকাংশ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদগুলো ফাঁকা থাকায় সম্ভব হচ্ছে না। গতকালও আমি মিনিস্ট্রিতে গিয়েছি, দ্রুত অ্যাকাডেমিক বিষয় চালু করার বিষয়ে পদক্ষেপ এবং তাদেরকে অবহিত করার জন্য। আশা করছি, দ্রুত ভালো কিছু হবে।
শেকৃবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মো. তৌহিদুল ইসলাম আশিক বলেন, করোনাকালীন লকডাউন, কোটা আন্দোলনসহ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ সেশনজটের মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে। একই সেশনে ভর্তি হওয়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে, সেখানে একই সেশনের আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারে রয়েছেন। আমরা এই সেশনজট নির্মূল করার প্রেক্ষিতে দ্রুত ক্লাস পরীক্ষা শুরু করতে চাই। আজ শিক্ষার্থীরা গণজমায়েতের মাধ্যমে শিক্ষকসহ কর্মকর্তাদেরকে দ্রুত অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই দাবির বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলে কিংবা দ্রুত বাস্তবায়নে অনাগ্রহী হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে।