ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ববির মসজিদ: লাল ইটে বৈচিত্র্যময় গাঁথুনির নান্দনিক স্থাপত্য

ববি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫০, ১০ জুলাই ২০২৩
ববির মসজিদ: লাল ইটে বৈচিত্র্যময় গাঁথুনির নান্দনিক স্থাপত্য
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজসহ তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নীল আকাশে চলছে সাদা-কালো মেঘের লুকোচুরি। এমন কোনো সকালের মিষ্টি রোদ যখন মসজিদের লাল ইটের ওপর আছড়ে পড়ে, তখন মনে হয় এ যেন একটুকরা সোনায় মোড়ানো ঘর। বলছি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কথা।

মসজিদটির নকশা ও ইটের বৈচিত্র্যময় গাঁথুনি দৃষ্টি কেড়েছে সবার। পুরো স্থাপত্যটি নান্দনিক হয়ে উঠেছে সব শ্রেণির মানুষের কাছে। চুন-সুরকি আর লাল ইটে তিনগম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি যুগ যুগের পুরনো না হলেও যেন মহাকালের গতিপ্রবাহের চিহ্ন সেজে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

এখানে নামাজ আদায়ে করলে বাড়তি প্রশান্তি আসে।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমে ২০ শতাংশ জমির ওপর ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজসহ তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদটিতে একইসঙ্গে প্রায় ৩ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদের ফ্লোরে ব্যবহার করা হয়েছে মার্বেল পাথর। রয়েছে ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম। কেন্দ্রীয় এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে।

যেন মহাকালের গতিপ্রবাহের চিহ্ন সেজে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

শরতের কাশফুলের শুভ্রতায় মসজিদটি ভিন্ন আঙ্গিকে সাজে। মসজিদের প্রবেশের রাস্তার দুইপাশ কাশফুল আর দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীর জানান দেয় মসজিদের বাড়তি সৌন্দর্য। এছাড়া অন্যসব ঋতুতে মসজিদের সামনে দেখতে পাবেন ফুলের সমারোহ। নানান শ্রেণির, নানান বর্ণের মানুষ এমনকি চলতি পথের পথিকও চলন্ত গাড়ি থামিয়ে ছুটে আসে মসজিদের বাহির লাল গাঁথুনি আর ভিতরের তুরস্ক থেকে আমদানি করা মার্বেল পাথরের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।

পুরো স্থাপত্যটি নান্দনিক হয়ে উঠেছে সব শ্রেণির মানুষের কাছে।

মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি শোনা মাত্রই ক্যাম্পাসের চারদিক দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে শিক্ষার্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা ছুটে আসেন মসজিদের আঙিনায়। অনেকে আবার দূর থেকে এই অপরূপ সৌন্দর্য ক্যামারাবন্দী করেন।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় এই মসজিদটিতে ইমামের দায়িত্বে আছেন মাওলানা গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে এখানে পাঁচ ওয়াক্ত মিলিয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ নামাজ আদায় করেন। রমজানে মুসল্লির সংখ্যাটি ২-৩ গুণ ছাড়িয়ে যায়। শুধুমাত্র পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই নয়। মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের দিনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ আশেপাশের এলাকা ও দূর দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন।

মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে।

অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ মসজিদটির মসজিদের সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ এনামুল হোসেন বলেন, লাল রঙে মোড়ানো ইট, সুউচ্চ মিনার আর গম্বুজের মুগ্ধতায় ক্যাম্পাসে থাকাকালে সময়ে ছুটি আসি মসজিদে। এখানে নামাজ আদায়ে করলে বাড়তি প্রশান্তি আসে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সঙ্গে দেখা হয়। মসজিদের আশেপাশের সৌন্দর্যবর্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজর দেওয়া দরকার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!