এর আগে গত শনিবার গ্রামের বাড়ী পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় ফিরে হটাৎ খিচুনি দিয়ে অচেতন হয়ে পড়লে রাজুর সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজুর বাবা আকতারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার আগেরদিন শুক্রবার সকাল ১০টার সময় রাজু ও রাজুর মা এবং বোন একসঙ্গে খাবার খান। এর পরেই রাজুর মা ও বোনের বমি হয়। আমি সকালের নাস্তা ও টিউবওয়েলের পানি খেয়ে মাঠে বীজ বুনতে যাই। এরপর বাসায় ফিরে মসজিদে নামাজপড়া অবস্থায় আমার শরীর অস্থির লাগতে শুরু করে। বাসায় ফিরে দেখলাম, রাজু, রাজুর মা ও আমার ছোট মেয়ে ঘুমাচ্ছে। আমি কৃষি কাজের মানুষ। আমার নিজের খারাপ লাগলেও আমি ফের মাঠে চলে যাই। এরপর সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখি, ওরা সবাই তখনও ঘুমাচ্ছে।
.png)
তিনি আরো বলেন, আমার বড় বোন (রাজুর ফুফু) ওদেরকে ডাকাডাকি করলেও কোন সাড়াশব্দ দিচ্ছে না। এরপর রাজুকে ডেকে বলে, তোর নাকি আজকে রাতে সাড়ে ৯টায় ট্রেন। তুই এখনো ঘুমচ্ছিস? উঠে স্টেশনে যা, ৮টা বেজে গেছে। ততক্ষণে আমিও ঘুমায় গিয়েছি। রাজুর ফুপু ওকে তুলে দিয়ে, জামা কাপড় গুছিয়ে দিয়ে, ঐদিন সন্ধ্যায় রান্না করা খাবার টিফিন বক্সে দিয়ে, রাজুকে ভ্যান গাড়িতে তুলে দেয়।’
পরবর্তীতে বাসার পাশের এক ভ্যান গাড়ি চালক রাজুকে স্টেশনে পৌঁছে দেয়। সেখানে রাজুর ক্লাসমেট একই বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়ার সঙ্গে তার দেখা হয়। রাজুর বাবার ভাষ্যমতে, ভ্যানচালক সাদিয়াকে বলে, রাজুকে একটু দেখে রাখতে। তার বাসায় সবাই যে অসুস্থ সে বিষয়টিও জানান।
পরবর্তীতে ঢাকার ট্রেনে ওঠার আগে রাজু তার এই সহপাঠীকে আরো জানান তার ঘুম ঘুম পাচ্ছিল এবং তাদের টিউবওয়েলে হয়ত কেউ কিছু দিয়েছে এবং বাসার সবাই ঘুমাচ্ছে।
রাজুর রুমমেট শরীয়তুল্লাহ জানান, রাজু খাওয়া দাওয়ার পর তিনি গায়ে হাত দিয়ে দেখেন রাজুর শরীর অনেক গরম। তখন কারণ জানতে চাইলে রাজু তাকে তাদের বাসায় এক আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটছে এবং সবাই অসুস্থ বলে জানায়।
শরীয়তুল্লাহর ভাষ্যমতে, পরে রাজু খেলা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পরে। তারপর হটাৎ খিচুনি ওঠার মত হয় এবং সে গিয়ে রাজুকে নাড়াচাড়া করে কোনো সাড়া না পেয়ে তার রুমমেট আরেক রুমমেট আরাফাতকে জানায়। তারপর তারা রাজুর অন্য বন্ধুদের জানিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়।
রাজুর সহপাঠী ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হাসান সাকিব বলেন, আমরা দেরি না করে এম্বুলেন্সে করে রাজুকে ঢাকা মেডিকেল নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পোস্টমর্টেম করা হয় এবং রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, এই ঘটনার পর আর্থিক সমস্যার কথা চিন্তা করে রাজুর বাবা আর মামলা করতে চাননি। তবে গ্রামের সবাই বুঝানোর পর তিনি এখন মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই কাজে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ খিঁচুনি উঠে রাজু আহমেদের মৃত্যু হয়। তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড় জেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।