করোনার মধ্যেও বেড়েছে চিংড়ি রফতানি
মহামারি করোনা পরিস্থিতির মধ্যে রফতানিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ার পরও খুলনা অঞ্চলে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে রফতানি আয় বেড়েছে। যেখানে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রেখেছে হোয়াইট গোল্ড খ্যাত চিংড়ি।
খুলনা অঞ্চলের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে খুলনা অঞ্চল থেকে রফতানি হয়েছে ২৯ হাজার ৫শ’ ৪০ দশমিক ৯৬৭ মেট্রিক টন চিংড়ি, যার মূল্য ২ হাজার ৩শ’ ৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। যা ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের চেয়ে ৬৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রফতানি হয়েছিল ২৯ হাজার ৬ দশমিক ৮২১ মেট্রিক টন চিংড়ি, যার মূল্য ২ হাজার ২শ’ ৯০ কোটি ২০ লাখ টাকা।
খুলনা অঞ্চলের মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ পরিদর্শক তৌফিক মাহমুদ জানান, চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরের জুলাই মাসে খুলনা অঞ্চল থেকে ২ হাজার ৯০৫.১৯৬ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি থেকে আয় হয় ২০১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জুলাই মাসে রফতানি হয়েছিল ৩ হাজার ৯৯ মেট্রিক টন চিংড়ি। যা থেকে আয় ছিল ২৪৫ কোটি টাকা। করোনার প্রভাবে চলতি বছরের জুলাই মাসে চিংড়ি রফতানি আয় কমেছে প্রায় ৪৩ কোটি টাকার।
জানা গেছে, খুলনা অঞ্চল থেকে ২০১১-১২ অর্থ বছরে ৪২ হাজার ৪৮৯.১০৩ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি হয়। যা থেকে আয় ২ হাজার ৫৩৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। এছাড়া ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৩৮ হাজার ৫৫১.৫৩ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি থেকে আয় ২ হাজার ২৪৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৩২ হাজার ৮০২.৮১ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি থেকে আয় হয় ২ হাজার ৭০০ কোটি ২২ লাখ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয় ২ হাজার ৫৪২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩১ হাজার ৬৮৬.৭৪ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি থেকে আয় হয় ২ হাজার ৫৪২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩০ হাজার ২১৭.০৭ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি থেকে আয় ২ হাজার ৫৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা, আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৯ হাজার ২০০.৭৮৮ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি থেকে আয় হয় ২ হাজার ৪৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
খুলনা মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের আগেই ফেব্রুয়ারি মাসেই খুলনা অঞ্চল থেকে চিংড়ি রফতানি আগের বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়। এরপর আরো এগিয়ে যাওয়ার সুয়োগ ছিল। কিন্তু ভাইরাসটির কারণে রফতানি অনেকটা কমে যায়।