ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

চীনা নাগরিকের সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ে, নবদম্পতিকে দেখতে ভিড়

শালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৭, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
চীনা নাগরিকের সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ে, নবদম্পতিকে দেখতে ভিড়
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর প্রেম। দুই বছরের সম্পর্কের পর পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেন ফরিদপুরের সালথার এক কলেজছাত্রী ও চীনা নাগরিক বলে পরিচয় দেওয়া এক যুবক। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন ওই যুবক। খবর ছড়িয়ে পড়লে নবদম্পতিকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় লোকজন। এ নিয়ে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি গ্রামে। তবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে নবদম্পতিকে পাওয়া যায়নি। তারা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই যুবকের নাম ওয়াং চাও। তার বয়স ২৫ বছর। তিনি চীনের নাগরিক বলে দাবি করা হচ্ছে। বিয়ের পর তার নাম রাখা হয়েছে আরিফ ইসলাম। তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের বয়স ২০ বছর। তিনি ফরিদপুর শহরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি সালথার নকুলহাটি গ্রামে।

তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াং চাওয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। তবে তাহমিনা নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় একপর্যায়ে পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়। গত ১৯ অক্টোবর ঢাকায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয়।

পরিবারের ভাষ্য, বিয়ের আগে হলফনামার মাধ্যমে ওই যুবকের ধর্ম ও নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

বিয়ের পর গত ২৬ অক্টোবর রাতে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি নকুলহাটি গ্রামে আসেন ওয়াং চাও। বিদেশি যুবকের সঙ্গে স্থানীয় কলেজছাত্রীর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। তবে শনিবার বিকেলে সেখানে নবদম্পতির দেখা মেলেনি।

তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়াং চাও সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাদের জানা নেই। বর্তমানে তাহমিনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তারা দুজনই চীনে চলে যাবেন।

এ বিষয়ে আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি শনিবারই লোকমুখে জানতে পেরেছেন। তিনি ওই বাড়িতে যাচ্ছেন। পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/শালথা/এমকে
ট্যাগ: ফরিদপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!