জাতীয় দাবায় রানার্সআপ খাগড়াছড়ির কিশোরী বাঁধন
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার কিশোরী আদিবা আরশি বাঁধন জাতীয় পর্যায়ের দাবা প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হয়েছে। ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর বড় গ্রুপের দাবায় এ সাফল্য অর্জন করে সে। তার এই অর্জনে আনন্দিত শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
বাঁধন মাটিরাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনাতেও মেধাবী এই শিক্ষার্থীর শ্রেণি রোল নম্বর ১। দাবার পাশাপাশি লেখাপড়ায়ও ভালো ফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে সে।
বাঁধনের দাবা খেলার শুরু করোনাকালে। সে সময় ঘরবন্দি দিনগুলোতে ব্যবসায়ী বাবা মোস্তফা কামালের কাছ থেকে দাবার চাল শেখে সে। বাবার সঙ্গে শখের বশে শুরু হওয়া খেলাটিই ধীরে ধীরে তার আগ্রহ ও দক্ষতা বাড়িয়ে তোলে।
পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় প্রতিযোগিতামূলক দাবায় নিজেকে গড়ে তোলে বাঁধন। শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক তুষিতার অনুপ্রেরণা এবং শিক্ষক মধুসূদন রায়ের সহযোগিতা ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা তার এগিয়ে চলার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাঁধনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা শুরু হয় ২০২৩ সালে। ওই বছর ৫০তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সে। ২০২৪ সালে ৫১তম আসরে জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেয়। এবার ২০২৬ সালের জাতীয় আসরে রানার্সআপ হয়ে সাফল্যের নতুন অধ্যায় যোগ করেছে এই কিশোরী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে এবং কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাঁধনের হাতে রানার্সআপ ট্রফি ও স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ।
মেয়ের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে মা সীমা আক্তার বলেন, ‘মেয়ের এ সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ছোটবেলা থেকেই দাবার প্রতি ওর টান ছিল। আমরা সব সময় ওকে সমর্থন দিয়েছি। ও যেন ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য আনতে পারে, সে জন্য সবার দোয়া চাই।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে এই অর্জন পুরো মাটিরাঙ্গার জন্য এক বিরাট সম্মান। বাঁধন আমাদের প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, সামনে সে আরও বড় মঞ্চে সাফল্য অর্জন করবে।’
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু বাঁধনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় বাঁধনের এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। এই ধরনের প্রতিভাবান কিশোরীদের বিকাশে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে পাশে দাঁড়াতে হবে।’
জাতীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাঁধন মাটিরাঙ্গার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করতে পারবে সে।