পঞ্চগড়ে ভারত থেকে পুশইনের শিকার ৬ জন আটক
ভারত থেকে পুশইনের শিকার হয়েছেন দাবি করা ছয় বাংলাদেশিকে পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের শের-ই-বাংলা পার্কসংলগ্ন শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের রঙ্গারচর বিন্দাবননগর এলাকার বাচ্চু মিয়া (৬০), তার স্ত্রী আমিনা বেগম (৫৫), মেয়ে দিলারা বেগম (৩০), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের চরারবাজার এলাকার মফিজ উদ্দিন (৩২), সুনামগঞ্জের কোম্পানীগঞ্জের কান্দিসুমতনগর এলাকার সুমন মিয়া (২০) এবং তার ফুফাতো ভাই সজিব মিয়া (১৯)।
আটক ব্যক্তিদের দাবি, তারা সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা দিয়ে দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যান। এ জন্য প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। পরে তারা ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের শ্রীনগর এলাকায় ফলের বাগানসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
তাদের ভাষ্য, পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সম্প্রতি কারাগার থেকে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে বিএসএফ তাদের পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে তারা দাবি করেন।
সীমান্ত পেরিয়ে পঞ্চগড় জেলা শহরে এসে তারা নাস্তা করেন। পরে বিকাশে টাকা এনে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য বাসের টিকিট কাটতে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারে গেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের আটক করে।
তবে কোন সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, তা জানাতে পারেননি আটক ব্যক্তিরা। পুলিশের ধারণা, পঞ্চগড় জেলা শহরের কাছাকাছি কোনো সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।