রাসায়নিক সার-কীটনাশক ছাড়াই টমেটো চাষ, লাখ টাকার বিক্রির আশা আনোয়ারের
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আধুনিক পদ্ধতিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই টমেটো চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক আনোয়ার হোসেন। ইতোমধ্যে তার খেতের টমেটো স্থানীয় বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার বেশি টমেটো বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবং বাজারদর ভালো থাকলে মৌসুম শেষে তার খেত থেকে ১ লাখ টাকার বেশি টমেটো বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত তিনি। একসময় বিদেশে চলে যাওয়ায় কয়েক বছর চাষাবাদ করা হয়নি। প্রায় চার বছর আগে দেশে ফিরে আবার বছরজুড়ে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ শুরু করেন।
.png)
তিনি বলেন, প্রায় তিন মাস আগে বাড়ির পাশে ১ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের প্রায় ১ হাজার ৫০০ টমেটোর চারা রোপণ করেন। জমি প্রস্তুত, চারা কেনা, রোপণ, নেটজাল ও সেচসহ এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। চারা রোপণের প্রায় ৭০ দিন পর গাছে ফলন আসে।
কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও নিজের পরিশ্রমে এবার টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে জানিয়ে আনোয়ার বলেন, গত ২০ দিন ধরে পাইকারি বাজারে টমেটো বিক্রি করছেন। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ও বাজারদর ভালো থাকলে মৌসুম শেষে ১ লাখ টাকার বেশি টমেটো বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
সরেজমিনে আদমপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা ১ বিঘা জমির চারপাশে নেটজাল দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। সারি সারি টমেটো গাছের প্রতিটিতে ঝুলছে ছোট-বড় অসংখ্য টমেটো। কোনোটি কাঁচা, আবার কোনোটি পেকে লাল হয়েছে। টমেটো সংগ্রহ ও বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক আনোয়ার।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আনোয়ার একজন আদর্শ কৃষক। তিনি সব সময় কর্মব্যস্ত থাকেন। বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন। স্থানীয়রা নিয়মিত তার খেতের তাজা সবজি কিনছেন।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ হচ্ছে। কৃষকদের সবজি চাষে সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়ার পাশাপাশি ফলন বাড়াতে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়।
তিনি বলেন, আনোয়ার একজন আদর্শ কৃষক। এবার টমেটো চাষ করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। বেকার ও শিক্ষিত তরুণরা সবজি চাষে এগিয়ে এলে একদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে উপজেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে। সবজি চাষে আগ্রহীদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।