ধামরাইয়ে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩
ঢাকার ধামরাইয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চারজন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আমতা ইউনিয়নের পশ্চিম নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সিএনজিচালক জুয়েল (৪০), অটোরিকশার যাত্রী আঁখি আক্তার (৩০) ও তার ১২ বছর বয়সী ভাগনে জাকারিয়া। তাদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইলে। জাকারিয়া আঁখির বড় বোনের ছেলে।
.png)
আহতরা হলেন আঁখির স্বামী সেলিম আহমেদ (৩৫), তার বাবা আবুল হোসেন (৬৫), লাকী আক্তার (৩২) ও লাকী আক্তারের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সাদিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে পশ্চিম নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকায় আরবিসি ব্রিকসের পাশে পাকা সড়কে কালামপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সাটুরিয়াগামী একটি অজ্ঞাত পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালকসহ কয়েকজন আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল ও জাকারিয়ার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আঁখি আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, বেলা ২টার দিকে আহতদের হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন অচেতন ছিলেন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। আঁখি আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। অন্য দুজনকে চিকিৎসা দেওয়া হলেও প্রায় ১০ মিনিট পর তাদের মৃত্যু হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে আঁখিরও মৃত্যু হয়।
নিহত আঁখির স্বামী সেলিম আহমেদ বলেন, তাদের বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর আগে। তাদের কোনো সন্তান নেই। সন্তানের আশায় তারা মৈনট পীরের বাড়ির মাজারে মানত করতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ও বড় ভাগনে মারা গেছেন।
ধামরাই থানার কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।