ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কাপ্তাই লেক নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাপ্তাই লেক নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কাপ্তাই লেকের পানি ছেড়ে দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। লেকের পানি নির্দিষ্ট সীমার ওপরে উঠলে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাঁধের স্পিলওয়ে খুলে পানি ছাড়া হয় বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী ও কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাপ্তাই লেকের পানি ছাড়া এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এসব তথ্যকে গুজব উল্লেখ করে এতে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, বর্তমানে বর্ষাকাল চলছে। কাপ্তাই লেকের পানির পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। লেকের পানি বিপদসীমার ওপরে উঠে গেলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পানি ছাড়া হয়।

Advertisement

তিনি বলেন, কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া এককভাবে লেকের পানি ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার মাহমুদ হাসান বলেন, কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ে কখন খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি কমিটি রয়েছে। লেকের পানি নির্ধারিত মাত্রায় বৃদ্ধি পেলে বিষয়টি নিয়ে কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, লেক থেকে পানি ছাড়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা প্রশাসককে এককভাবে দায়ী করে যেসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো গুজব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পেজ ও গ্রুপে সাবেক চুয়েট ছাত্রদল সভাপতি প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলামের নাম ব্যবহার করে কাপ্তাই লেক ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে বিভিন্ন দাবি প্রচার করা হচ্ছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, কাপ্তাই লেকের পানি ছেড়ে দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মাধ্যমে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ওই পোস্টে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও বিদ্যুৎ সচিবকে এ ঘটনায় দায়ী করে তাদের অপসারণ এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করা হয়েছে।

পোস্টটিতে আরও দাবি করা হয়, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল জ্বালানি পানি এবং একটি মহল বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে।

তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, লেকের পানি ছাড়ার বিষয়টি নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অযাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!