ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

রাঙ্গামাটিতে পানি নেমে যাওয়ায় স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন

এম. মঈন উদ্দীন, রাঙ্গামাটি
প্রকাশিত: ১৬:১১, ২২ জুলাই ২০২৬
রাঙ্গামাটিতে পানি নেমে যাওয়ায় স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চলতি মাসের শুরুতে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙ্গামাটির বেশ কিছু উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ওই সময়ে ওইসব এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হলেও পানি নেমে যাওয়ায় জনজীবন আবারো স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

বন্যার পর সমতল এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিলেও এ অঞ্চলে পানিবাহিত রোগের কোনো প্রাদুর্ভাব থাকে না।  তবে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলে পানি বাহিত রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।

শুষ্ক মৌসুমে যখন চারদিক নদী, ঝিরি, ঝর্ণা, কুয়ার পানি শুকিয়ে যায় তখন বিশুদ্ধ পানির সংকটে পাহাড়ে বসবাসরতদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিশুদ্ধ পানির সংকটে  স্থানীয়দের কাপ্তাই হ্রদের পানি পান করতে হয়। যে কারণে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলে পানিবাহিত রোগের ছড়াছড়ি হয়।

Advertisement

এবারের বন্যায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বিলাইছড়ি এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা। এ দুটি উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায়। যে কারণে এ উপজেলাগুলোর ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য এবং কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় মানুষের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুরজিৎ দত্ত বলেন, বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে এখানে পানিবাহিত রোগী নেই বললে চলে। গত এক সপ্তাহ আগে একজন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছিল। তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।

ডা: সুরজিৎ আরও বলেন, মূলত এখানে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ে শুষ্ক মৌসুমে। শুষ্ক মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির অভাবে এ রোগের প্রকোপ দেখা দেয়।

রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খীসা বলেন, পার্বত্য এলাকা এবং সমতলের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সমতলে বন্যা হলেও এখানে বন্যা হয় না। প্রবল বর্ষণের সময় এ অঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো ডুবে যায়। ওই এলাকায় কয়েকদিন পানি স্থায়ী হলেওে তা দ্রুত নেমে যায়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ে বসবাসরত অনেক সাধারণ মানুষ পানি সংরক্ষণ করে রাখে।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, আমাদের মূলত পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে শুষ্ক মৌসুমে। অর্থাৎ সমতলের বিপরীত বলা চলে।

জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জেলায় বন্যায়  ৪৮৩টি বসতঘর, ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২৫টি সেতু-কালভার্ট এবং ৫৪৬.৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতে ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর ফসলি জমি এবং মৎস্যখাতে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলায় ২৯৫ মেট্রিক টন চালের মধ্যে রাঙ্গামাটি সদর ও পৌরসভায় ৪০, লংগদু ২০, কাউখালী ৩০, বরকল ২০, বাঘাইড়ি ৪৫, জুরাছড়ি ১০, নানিয়ারচর ১০, কাপ্তাই ৫০, বিলাইছড়ি ৫০, রাজস্থলী ২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ কর হয়।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এবারের বন্যা ও পাহাড় ধসে জেলায় মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৭১৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারিভাবে ৩৫ লাখ টাকা এবং ২৯৫ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৩১৪ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু সুবিধা ভোগীর সংখ্যা মাত্র  ৩২ হাজার ৫৪৬ জন। অর্থাৎ ৭৬ হাজার ৭১৭ জন মানুষ এখনও সরকারি কোনো সুবিধার আওতায় আসেননি বলে জানা গেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!