ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
দুই ঘন্টার মাছের বাজার

সিরাজগঞ্জের যমুনার মাছ যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়

গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী
প্রকাশিত: ১২:২১, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিরাজগঞ্জের যমুনার মাছ যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়
সিরাজগঞ্জের মাছের বাজার। ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের যমুনার মাছ যায় রাজধানী সহ বিভিন্ন এলাকায়। দুই ঘন্টার বাজারে লাখ লাখ টাকার যমুনার টাটকা- তাজা মাছ বেচাকেনা হয়। বাজারে ভোরের আলো ফোটার আগেই যমুনা নদীর তীরে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। একের পর এক নৌকা ভিড়তে থাকে ঘাটে। নৌকা থেকে নামানো হয় ঝুড়ি আর ডালাভর্তি টাটকা-তাজা যমুনার বিভিন্ন মাছ। সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ২ ঘন্টার এই বাজারেই চলে জমজমাট বেচাকেনা। অল্প সময়েই লেনদেন হয় লাখ-লাখ টাকার মাছ।
দীর্ঘদিনের সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় যমুনার তীরবর্তী বাঐখোলা, মেঘাই, ঢেকুরিয়া গ্রামে যমুনার এই মাছের ঘাটে। নিলামদারগণ উচ্চস্বরে দর হাঁকেন, আর ক্রেতারা জানান নিজেদের প্রস্তাবিত দাম। মুহূর্তেই জমে ওঠে প্রাণবন্ত এক পরিবেশ। নিলাম পদ্ধতির কারণেই এই তিন মাছের বাজার পেয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীরা কিনে নেন বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড়সহ পছন্দের মাছ।
এই মাছের বাজারে প্রধান আকর্ষণ টাটকা-তাজা মাছ। যমুনানদীর ইলিশ, বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতল, আইড়, ট্যাংরা, গুলশা, চিংড়ি, বাতাসি, বাঘাইড়, গাইড়া, কাজলি, গোসা, শিং, মাগুর, পাঙ্গাশ, মৃগেল, গচি, বাইন ও কালবাউশ, বেলেসহ নানা দেশীয় মাছের সমারোহও চোখে পড়ে এখানে। স্থানীয় জেলেদের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকারদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো বাজার। এখানকার মাছ ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। আধুনিক অবকাঠামোর অভাব, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং বর্ষা মৌসুমে কাদা পানির দুর্ভোগে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের।
মঘাই, ঢেকুরিয়া ও বাঐখোলা গ্রামে যমুনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা মাছের বাজার পুরো এলাকার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। পরিকল্পিতভাবে আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখান থেকেই আরও বড় পরিসরে মাছের বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সব সীমাবদ্ধতা পেরিয়েও যমুনাপাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী মাছের বাজারে প্রতিদিনই লেনদেন হয় লাখ লাখ টাকার মাছ। 
মেঘাই মৎস্য আড়তদার হামিদ মন্ডল বলেন, ভোরের আলো ফুটতেই নদীর চর এলাকা থেকে মাছের নৌকা এসে ভেড়ে নদী পারে। প্রতিদিন গড়ে বিভিন্ন প্রকারভেদে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয় এই বাজারে। মাছ বিক্রেতারা বলেন, নিলাম শেষে পাইকাররা এই মাছ নিয়ে চলে যায় শহরের বিভিন্ন বাজারে। তবে এই উৎপাদন টেকসই রাখতে সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।
কাজীপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম (দায়িত্ব প্রাপ্ত) জানান, এ উপজেলায় ২ হাজার ৬শ' ৯৩ জন তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছে। যমুনা নদীতে দেশি মাছের যে প্রাচুর্য রয়েছে তার একটি বড় অংশই এই সব ঘাটে আসে। প্রতিদিন জেলেরা রাতভর মাছ ধরে ভোরে এখানে নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য।
উল্লেখ্য, আমিষ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ কাজিপুর। ৬ হাজার ১শ ১১ মেট্রিক টন মাছ বার্ষিক উৎপাদনের প্রধান উৎস যমুনা নদীর চরাঞ্চলের নাটুয়ার পাড়া, চরগিরিশ, তেকানি, খাসরাজবাড়ী, নিশ্চিতপুর ও মনসুর নগর ইউনিয়নের ছোট-বড় শতাধিক চর। এছাড়াও সরকারি পুকুর ৯টি, ব্যক্তিগত ১৭৬৫টি এবং ৬টি বিল রয়েছে।

Advertisement
ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!