অবৈধ বালু উত্তোলনে বিলীনের পথে চর সোনারাম, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ টাওয়ার
কিশোরগঞ্জের ভৈরব অংশে নামমাত্র ইজারা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ অংশে দিন-রাত অর্ধশতাধিক ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে মেঘনা নদীর বুকে শতবছর আগে জেগে ওঠা চর সোনারামপুর গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি হুমকিতে পড়েছে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জাতীয় গ্রিড লাইনের টাওয়ার, কেপিআইভুক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মেঘনা নদীর ওপর থাকা দুটি রেলসেতু ও একটি সড়ক সেতু।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভৈরব অংশে ইজারার আড়ালে বালু সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে আশুগঞ্জ অংশের একেবারে কাছে ড্রেজার নিয়ে এসে দেদারছে বালু তুলছে। চরের বাসিন্দা বিনয় চন্দ্র দাস ও সুমা রানী দাস জানান, যেভাবে নদীভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে পুরো গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। আতঙ্কে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে স্থানীয়দের। গ্রাম রক্ষার দাবিতে তারা এর আগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাড়া মেলেনি। অবৈধ এই বালু মহল থেকে প্রতিদিন অন্তত কোটি টাকার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন তৎকালীন আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মো. ছড়া। বালু সন্ত্রাসীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়, জোরপূর্বক অপচেষ্টা করে এবং জব্দ করা ১০টি ড্রেজারের মধ্যে একটি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য থামেনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহাবুব শ্যামল বলেন, ভৈরবের বালু সিন্ডিকেট রাতের বেলা অবৈধভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ অংশে চলে আসে। প্রশাসনের কিছু অসাধু লোকও এর সাথে জড়িত। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে ইজারা নিয়ে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমানায় অবৈধভাবে বালু তুলছে। বিষয়টি নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে। বালু ব্যবসায়ীরা যেন অভিযানের সময় কিশোরগঞ্জ অংশে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য যৌথভাবে খুব দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।