দিনাজপুর শহরে ছুটে চলছে এক টুকরো আর্জেন্টিনা
পুরো বাইক সাজানো হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে। বাইকের কোথাও ফুটে উঠেছে লিওনেল মেসির ছবি, আবার বিশ্বকাপ জয়ের তিনটি তারকা। এজেন দিনাজপুর শহরে ছুটে চলছে এক টুকরো আর্জেন্টিনা।
ব্যতিক্রমী এই বাইকের দেখা মিলবে দিনাজপুর শহরে। বাইকটির মালিক দিনাজপুর শহরের মিশন রোড এলাকার তরুণ তানজির হোসেন। প্রিয় ফুটবল দল আর্জেন্টিনার প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই নিজের মোটর সাইকেলটিকে তিনি সাজিয়েছেন ব্যতিক্রমী এই রূপে। এখন শহরের রাস্তায় বাইকটি ছুটে চললে অনেকেই একে 'আর্জেন্টিনার বাইক' কিংবা ‘মেসির বাইক’ বলেই চিনে ফেলেন।
তানজির ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ হোক কিংবা কোপা আমেরিকা প্রিয় দলের প্রতিটি ম্যাচই তিনি আগ্রহ নিয়ে দেখেন। দলের জয়ে যেমন আনন্দে ভাসেন, তেমনি পরাজয়ে কষ্টও পান। সেই আবেগ থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজের সবচেয়ে প্রিয় বাহনটিকেই আর্জেন্টিনার পরিচয়ে সাজাবেন।
.png)
স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে কয়েক দিনের কাজ শেষে বাইকটি নতুন রূপ পায়। আকাশি-সাদা রঙের সঙ্গে নান্দনিক গ্রাফিক্স যোগ হওয়ায় বাইকটি এখন সবার নজর কাড়ে।
পথচারী রিফাত ইসলাম বলেন, ‘প্রথম দেখেই বাইকটি আমার নজর কাড়ে। এত সুন্দরভাবে আর্জেন্টিনার রঙ ব্যবহার করা হয়েছে যে, না তাকিয়ে উপায় নেই। এটি শুধু একটি বাইক নয়, ফুটবলপ্রেমেরও একটি দারুণ প্রকাশ।’
আর্জেন্টিনার সমর্থক আশিক ইসলাম বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার একজন নিবেদিত সমর্থক। দিনাজপুরে একটি মোটরসাইকেল পুরোপুরি আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে স্টিকার করা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। এমন ব্যতিক্রমী ভালোবাসার প্রকাশ আমার খুবই ভালো লেগেছে। আগামী বিশ্বকাপ উপলক্ষে আমিও আমার মোটরসাইকেলটি একইভাবে আর্জেন্টিনার স্টিকার দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনা করছি।’
তানজির হোসেন বলেন, ‘আমি শুধু ফুটবল দেখি না, আর্জেন্টিনাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি। তাই বাইকটিকে এমনভাবে সাজিয়েছি, যেন এটি দেখলেই সবাই বুঝতে পারে আমি আর্জেন্টিনার একজন সমর্থক। রাস্তায় বের হলে অনেকেই ছবি তোলেন, আবার কেউ এসে কাজটি কোথায় করিয়েছি সেটিও জানতে চান।’
তিনি আরও জানান, বাইকটি রঙ করার পর থেকে বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতদের পাশাপাশি অপরিচিত মানুষের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। অনেকেই একইভাবে নিজেদের মোটরসাইকেল সাজানোর আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
তানজির বলেন, ‘‘কাগজে-কলমে এটি আমার মোটরসাইকেল। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা দেখে এখন আর এটিকে শুধু আমার বাইক বলতে পারি না। এটি যেন গোটা বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাইক হয়ে উঠেছে। রাস্তায় বের হলেই ছোট ছোট বাচ্চারা বলে ওঠে, ‘দেখো, মেসির বাইক যাচ্ছে!’ আবার অনেকে বলেন, ‘আর্জেন্টিনার বাইক যাচ্ছে।’ মানুষের এই ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’’
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আগে ফুটবলপ্রেমীরা জার্সি, পতাকা কিংবা ব্যানারের মাধ্যমে নিজেদের সমর্থন প্রকাশ করতেন। এখন সময়ের সঙ্গে সেই প্রকাশের ধরনও বদলেছে। মোটরসাইকেলের গায়েও ফুটে উঠছে প্রিয় দলের রঙ ও পরিচয়।
ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশে উন্মাদনা নতুন নয়। তবে দিনাজপুরের তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেলকে প্রিয় দলের রঙে সাজানোর এই প্রবণতা ফুটবলপ্রেমে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। আর সেই তালিকায় ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছেন মিশন রোডের তানজির হোসেন। তার আকাশি-সাদা মোটরসাইকেল যেন প্রতিদিন শহরের রাস্তায় ছুটে চলা এক টুকরো আর্জেন্টিনা।