মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাসে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান (১৪)। সে ওই প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায় অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থী।
বুধবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর লাশ নিয়ে রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
.png)
ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, রোববার কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে যায়। ৪১৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র মেহেদী হাসান ফোনটি চুরি করেছে বলে অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফোন হারানো ওই ছাত্রসহ ৯ জন সিনিয়র শিক্ষার্থী মেহেদীকে ৪১৫ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে নির্মমভাবে মারধর করে তারা। এতে একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।
আরো পড়ুন >>> ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে ছিনতাইচেষ্টা, আটক ৩
তিনি অভিযোগ করেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আড়াল করতে অভিযুক্ত ছাত্ররা মেহেদীর গলায় মাফলার প্যাঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়। ওই সময় হোস্টেলের বেশির ভাগ ছাত্র মাঠে খেলাধুলা করছিল অথবা নামাজে ছিল।
শিক্ষক ইসমাইল বলেন, আমরা মেহেদীকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে মেহেদীর মৃত্যুর খবরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রাত ৯টার দিকে কয়েকশ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলের বাইরে জড়ো হন। রাত ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি পুলিশ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু বিক্ষুব্ধ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পরে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে রাত ২টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি ৭ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
আরো পড়ুন >>> চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বৃদ্ধ আটক
বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর লাশ নিয়ে রামগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন নিহত ছাত্রের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ যথাযথ তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে মেহেদীর লাশ তার নিজ গ্রামে নিয়ে বাদ আসর জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
নিহত মেহেদীর সোনাপুর বাজার এলাকার রাঘবপুর গ্রামে। সে তার বাবা-মার একমাত্র সন্তান। তার বাবার নাম জিয়া উদ্দিন এবং মা শারমিন আক্তার। মেহেদীর চাচা জুয়েল রানা বলেন, আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ভাতিজাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
আরো পড়ুন >>> যমজ ২ ভাইয়ের সঙ্গে যমজ দুই বোনের বিয়ে, চাঞ্চল্য
মেহেদীর মা অভিযোগ করে বলেন, ওই দিন বিকেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে ফোন করে জানায়, আমার ছেলে অসুস্থ। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত স্কুলে যাই। কিন্তু গিয়ে শুনি, ছেলে আর বেঁচে নেই।
রামগঞ্জ থানার ওসি মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, মোবাইল চুরির অভিযোগে মেহেদীকে মারধর করা হয়। তবে শুধু মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় বুধবার বিকেল পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদের আটকের চেষ্টা চলছে।
একাডেমির অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।