জানা গেছে, গত মৌসুমে পঞ্চগড়ে ২১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে জেলার ৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অর্ধেকের বেশি আবাদ হয়েছে আটোয়ারী উপজেলায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের ফলন ভালোর আশায় হাত দিয়ে পরাগায়ণের কাজে নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে জমিগুলোতে এখন কর্মচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।
.png)
কৃষকরা জানান, প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ গাছের ফুলে হাতে হাতে পরাগায়ণের কাজ করা হচ্ছে। এতে বীজের ফলন ভালো হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন তারা।
আটোয়ারী উপজেলার রানিগঞ্জ এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, তিনি গত তিন বছর ধরে পেঁয়াজ বীজ চাষ করছেন। প্রথম বছর লাভ হলেও গত বছর কিছুটা লোকসান হয়েছিল। তবে এবার দুই একর জমিতে উন্নত জাতের বীজ লাগিয়েছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাজার ভালো থাকলে দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তিনি।
ওই এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে থাকেন। এবার বাবুল ইসলামের পেঁয়াজ বীজ ক্ষেত দেখতে এসে ফলন ভালো হওয়ায় আগ্রহী হয়েছেন। আগামী মৌসুমে অন্য ফসলের পাশাপাশি পেঁয়াজ বীজ চাষের পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে পেঁয়াজ ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিক সেলিনা বেগম বলেন, পেঁয়াজ বীজের ক্ষেতে কাজ করে বাড়তি আয় হচ্ছে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক একসঙ্গে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করেন। হাতে পরাগায়ণ করলে ফলন বেশি হয় বলেই তারা এ কাজে অংশ নিচ্ছেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, গত মৌসুমে তাহেরীপুর ও ফরিদপুরী জাতের পেঁয়াজ বীজ আবাদ হলেও এবার হাইব্রিড ও রানি ওয়ান জাতের বীজ চাষ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারজাত করলে প্রায় ৭ কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, পঞ্চগড় জেলায় পেঁয়াজ বীজের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের আরো উৎসাহিত করা গেলে দেশে পেঁয়াজ বীজের আমদানি নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রফতানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।