জানা গেছে, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি আবাদ করা গেলেও পঞ্চগড়ে প্রধান আবাদ দুটি মৌসুমের ধান। বর্ষাকাল প্রকৃতি নির্ভর আমন এবং ইরি মৌসুম সেচ নির্ভর বোরো ধান। ছোট-বড় সব কৃষকই এই দুই মৌসুমে ধান আবাদ করে থাকেন। আর ধান আবাদ করে নিজের সারা বছরের খাবারের যোগান দেওয়ার পাশাপাশি ধান বিক্রির টাকা দিয়ে সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ সংসারের অন্যান্য খরচ মেটাতে হয়। তবে বাজারে চালের দাম বেশি হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না কৃষকরা।
কারণ বিভিন্ন কারণে ধান মাড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাড়তি ধান বিক্রি করে দিতে হয়। আর একসঙ্গে সবাই ধান বিক্রি করায় ধানের দাম কমে যায়। পরে কৃষকদের ধান শেষ হওয়ার পরই বাজারে বেড়ে যায় ধানের দাম। তখন রাইস মিল মালিকরা বাজার থেকে সব ধান কিনে গুদামজাত করেন। পরে তাদের হাতেই নিয়ন্ত্রণ থাকে চালের বাজার। পঞ্চগড় জেলার মাটি অনেকটা বেলে-দোআঁশ হওয়ায় অন্যান্য জেলার চেয়ে এখানে বোরো ধান কম আবাদ হয়। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারো জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় বেড়েছে বোরো ধানের আবাদ।
.png)
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পঞ্চগড় জেলার পাঁচ উপজেলায় হাইব্রিড ও উফশী মিলিয়ে ৩৩ হাজার ৯৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ২১ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ২৪ হাজার ৯৭৩ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের ধান আবাদ করা হবে।
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। আর দুই সপ্তাহের মধ্যে চারা রোপণের কাজ শেষ হবে। এসব জমিতে চারা রোপণের জন্য ১ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এবার বোদা উপজেলায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৩৮০ হেক্টর এবং দেবীগঞ্জ উপজেলায় ১০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য উপজেলার মধ্যে তেঁতুলিয়ায় ৪ হাজার ৯২৫, সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৩৯৫ এবং আটোয়ারীতে ৪ হাজার ৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হবে।
বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক শাহ আলম বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এখন ধানের দাম বেশি। খরচ একটু বেশি হলেও এবারও পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করছি। এখন পর্যন্ত অবস্থা বেশ ভালো। কোনো ধরনের দুর্যোগ না এলে এবার ফলন বেশ ভালো হতে পারে।
সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের গোলাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু বলেন, গত মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছিলাম। ধান বিক্রি করে শেষ পর্যন্ত খরচের টাকাও ওঠেনি। তাই এবার বোরো ধান কমিয়ে ওই জমিতে ভুট্টা ও বাদাম করছি। নিজের খাওয়ার জন্য মাত্র দুই বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করেছি।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মতিন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত মৌসুমে পঞ্চগড়ে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। পোকামাকড়ের আক্রমণ কিছুটা বেশি থাকলেও কৃষকরা অধিক ফলন ঘরে তুলতে পেরেছেন। এবারো এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে এবারো আমরা বাম্পার ফলনের আশা করছি।