জেলার বিভিন্ন কৃষি সমৃদ্ধ এলাকায় এখন চোখে পড়ে এক অন্যরকম দৃশ্য। যতদূর চোখ যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দুলছে গমের শীষ। প্রতিবছর এসব জমিতে বোরো ধানের আবাদ হলেও এবার অনেক কৃষক গম চাষ করছেন। কৃষকদের মতে, গম আবাদে খরচ কম এবং অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন হয় না। গম কাটার পর একই জমিতে পাট এবং পরে আমন ধান আবাদ করা যায়। ফলে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকায় গম চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি।
কৃষকদের মতে, এবার গমের ফলনও ভালো হয়েছে এবং আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ পর্যন্ত গম উৎপাদনের আশা করছেন তারা। তবে কৃষকদের প্রত্যাশা, সরকার গমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেক কৃষক।
.png)
তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটাপাড়া গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন (৪৭) জানান, কয়েক বছর ধরেই তিনি বোরো আবাদ না করে গম চাষ করছেন। এবার দুই একর জমিতে গম আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, প্রতি একরে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জমিতে তিনবার সার ও তিনবার সেচ দিতে হয়েছে। আশা করছেন প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ গম পাওয়া যাবে।
সদর উপজেলার অমরখানা এলাকার কৃষক আবু বকর (৬৫) বলেন, এবার গমের ফলন ভালো হয়েছে। সরকার যদি গমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে, তাহলে কৃষকরা লাভবান হবেন। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, কৃষি অফিস থেকে তাদের খোঁজখবর নেওয়া হয় না। তিন বিঘা জমিতে গম আবাদ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা মাঠ পরিদর্শনে আসেননি।
স্থানীয় অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা অনেক সময় ধনী কৃষকদের বাড়িতে গিয়ে সার ও বীজ বিতরণ করেন। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, তারা নিয়মিতভাবে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সার, কীটনাশকসহ সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে এবং মাঠের উপযোগিতা যাচাই করতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন জানান, এবার জেলায় গমের ফলন ভালো হয়েছে। এরইমধ্যে গম পাকা শুরু হয়েছে এবং আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে গম কাটা শুরু হবে। তিনি বলেন, এবার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন গম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।