ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

খেলার মাঠ থেকে ডেকে নিয়ে পরপর ৩টি গুলি করে দুর্বৃত্তরা, অতঃপর...

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৪৩, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪
খেলার মাঠ থেকে ডেকে নিয়ে পরপর ৩টি গুলি করে দুর্বৃত্তরা, অতঃপর...
হুমায়ন কবির -ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, এলাকার আধিপত্ব ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ছাত্রদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নরসিংদীর পাঁচদোনা মেহেরপাড়ায় বাড়ি আঙিনায় খেলার মাঠ থেকে ডেকে এনে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

নিহত হুমায়ন কবির (২৬)  মেহেরপাড়া ইউনিয়নের নাগরারহাট এলাকার একরামুল হকের ছেলে। তিনি মেহেরপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য।

নিহতের স্বজনরা জানান, এলাকার আধিপত্ব ও জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একই এলাকার বাদল মিয়া, শাহআলম ও আতাউর মেম্বারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দ্বন্দ্বের জেরে তাদের মধ্যে একাধিক মামলা মোকদ্দার ঘটনার ঘটে। রোববার রাতে নিহত হুমায়ন বাড়ির পাশের আঙিনায় ব্যাডমিন্টন খেলছিলেন। রাত ১২টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলযোগে শাহ আলম ও টিপুসহ ৪ জন হুমায়নের বাড়ির সামনে আসেন। ওই সময় তারা হুমায়নকে পাঁচদোনা বাজার মাছের আড়ৎ মসজিদের দিকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে সন্ত্রাসীরা তার বুকে, পিটে ও ঘাড়ে পরপর ৩টি গুলি করে। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে খেলার মাঠ থেকে লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে তারা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় হুমায়নকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

Advertisement

এদিকে, হুমায়ন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এলাকাবাসী। 

নিহত হুমায়নের বন্ধু ও মেহেরপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক সুজন ভূঁইয়া জানান, স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল নিহত হুমায়নের। তার নেতৃত্বেই পাচঁদোনা মেহেরপাড়া ও মাধবদী আন্দোলন হয়েছিল। এসব ঘটনা নিয়ে তিনি এলাকার অনেকের রোষানলে পড়েন। এসবের জেরে তার বাড়ি-ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পালিয়ে থাকেন। ৫ তারিখের পর এলাকায় আসেন। এরই মধ্যে গতকাল তাকে বাড়ির আঙিনা থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নিহতের বড় ভাই আল মামুন জানান, আমাদের একটি জমি দখল করে নেন বাদল মিয়ারা। পরে মামলার রায় পাওয়ার পর আমারা জামিটি দখলে নেই। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়। এরই জেরে তারা আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। এছাড়া স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এসব নিয়ে অনেকে তাকে দমানোর চেষ্টা করছিল।

মাধবদী থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ব্যাডমিন্টন খেলা শেষে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো পূর্বশত্রুতার জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনসহ হত্যাকারীদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!