মেয়ের সফলতায় অত্যন্ত খুশি হয়ে কালাসোনা চাকমা জানান, সে গতবারের মতো এবারো ভালো খেলেছে। এতে গ্রামের মানুষ খুব খুশি হয়েছে। গতবার সরকার থেকে একটি ঘর করে দিয়েছিল। একটি রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু তা এখনো হয়নি।
অদম্য প্রতিভাবান পাহাড়ের মেয়েরা জাতীয় নারী ফুটবল দলে খেলে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনলেও তাদের পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ির দুর্গম এলাকায় রুপনা চাকমার পরিবারের বসবাস। ২০২২ সালে প্রথমবার সাফ নারী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে রুপনার বাড়ি ও চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু রুপনার পরিবারকে চার কামরার সেমিপাকা ঘর করে দিয়ে আর কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।
.png)
শুক্রবার দুপুরে রুপনার সেমি পাকা বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে ২০২২ সালে বিগত সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া রুপনা চাকমার কৃতিত্বের স্মারক। শোকেস ভর্তি নানান ট্রফি ও ক্রেস্ট। সঙ্গে আছে অনেক ছবিও। তবে ঘরের ভেতরে পানির সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি। এ জন্য ঘরের ভেতরের বাথরুম এখনো ব্যবহার করতে পারেন না রুপনার পরিবারের লোকজন।
নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভুইয়াদাম গ্রামের স্থানীয়রা জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট রুপনা চাকমা। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি মনোযোগী তিনি। তবে জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে মা ও ভাইবোনকে ছাড়া। রুপনা ছোটবেলায় খেলাধুলা ও পড়ালেখার জন্য চলে আসেন রাঙ্গামাটির কাউখালীর ঘাগড়ায়। ছোটবেলায় বাবা হারানো মেয়েটির লড়াই ছিল খুবই কঠিন। রুপনার পরপর দুইবারের সফলতা অর্জনে গ্রামের মানুষ অনেক খুশি। তার কারণে দেশের মানুষ এখন পাহাড়ের দুর্গম ভুইয়াদামকে চিনতে পারছে। সামনে যেন রাস্তাটি হয়; সেই দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রুপনা চাকমার বড় বৌদি সুশীলা চাকমা জানান, মোবাইলে খেলা দেখেছি রুপনার। খুব ভালো লেগেছে। সে খুব ভালো খেলছে। এলাকার মানুষও তার খেলা দেখে খুবই আনন্দিত। তার ভবিষ্যত জীবনের সফলতা কামনা করেন তিনি।
রুপনার গ্রামের বাসিন্দা প্রীতিময় চাকমা জানান, রুপনা তাদের গ্রামের গর্ব। সে খুব ভালো গোলরক্ষক। সরকারের কাছে একটি আবেদন থাকবে তার বাড়িটি তো করে দিয়েছে। এখন রাস্তাটি যেন অতিদ্রুত সময়ে করে দেওয়া হয়।
ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোলেখা চাকমা জানান, তাদের (রুপনা, ঋতুপর্ণা) খেলা দেখেছি। খুবই ভালো লেগেছে। তাদের মতো খেলার চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে যেন জাতীয় দলে খেলতে পারি।
রুপনার বড় ভাই শান্তি জীবন চাকমা বলেন, পুরো খেলাটি মোবাইলে দেখেছি। খেলা শেষে আমরা তো খুশিতে নাচানাচি করছিলাম। খুবই ভালো লাগছে।