ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর পর হত্যা মামলা, ২৫ দিন পর মরদেহ উত্তোলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর পর হত্যা মামলা, ২৫ দিন পর মরদেহ উত্তোলন
২৫ দিন পর মরদেহ উত্তোলন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাইবান্ধার সদর উপজেলায় আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য দাফনের ২৫ দিন পর কবর থেকে জান্নাতী বেগম নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মরদেহ উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মো. মাসুদ রানা।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের কবরস্থান থেকে তার মরদেহ তোলা হয়।

Advertisement

ওসি জানান, আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে ওই নারীর মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জান্নাতী বেগমের (৩০) বাবার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। তার বাবার নাম ছালদার মিয়া। দশ বছর আগে বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে সোরহাব হোসেনের সঙ্গে জান্নাতী বেগমের বিয়ে হয়। জান্নাতী বেগমের ১২ বছরের এক মেয়ে ও ৫ বছরের এক ছেলেসন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে স্ত্রী জান্নাতীকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন স্বামী সোরহাব হোসেন।

এর আগে, গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় ডিস লাইনে সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জান্নাতী বেগমের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে স্বামী সোরহাবসহ তার পরিবারের লোকজন মরদেহ বল্লমঝাড়ের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়।

এ ঘটনার ৭ দিন পর মৃত জান্নাতী বেগমের মামা ছকু মিয়া বাদী হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর স্বামী সোরহাব হোসেনসহ ৫ জনকে আসামি করে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বিদ্যুৎপৃষ্টে নয়, বিয়ের পর থেকেই জান্নাতী শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। তাকে মারপিট করে হত্যার পর বিদ্যুৎপৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়টি প্রচার করা হয়।

মামলার বাদী ছকু মিয়ার অভিযোগ, জান্নাতীর মরদেহ নিয়ে আসার পর গোসল করার সময় গলা, বাম পাজর ও বাম হাতে রক্তাক্ত জখম দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত কিছু লোকজনের কাছে সাদা কাগজ স্বাক্ষর নিয়ে জান্নাতীর মরদেহ দাফন করা হয়। মূলত মারধর ও নির্যাতনের কারণেই জান্নাতীর মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগে মামলা ও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।

তবে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জান্নাতীর স্বামী সোরহাব হোসেনসহ তার পরিবারের সদস্যরা। তারা বলছেন, কোনো নির্যাতন ও মারপিট করা হয়নি জান্নাতীকে। ডিস লাইনের তার লাগাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জান্নাতীর মৃত্যু হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: গাইবান্ধা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!