ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কুমিল্লায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, নেপথ্যে পরকীয়া

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৩, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
কুমিল্লায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, নেপথ্যে পরকীয়া
গ্রেফতারকৃত আক্তার হোসেন- ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার হোমনায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র অভিযুক্ত নিহত মাহমুদার পরকীয়া প্রেমিক আক্তার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত ধার নেয়া টাকা ফেরত না দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটান পরকীয়া প্রেমিক আক্তার।

শনিবার হোমনা থানার ওসি জয়নাল আবেদীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার রাতে হোমনার শ্রীমদ্দি চরের গাও এলাকায় অভিযান চালিয়ে আক্তার হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Advertisement

জিজ্ঞাসাবাদে আক্তার হোসেন জানায়, নিহত মাহমুদার সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর মাহমুদা তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ধার নেন। সেই টাকা ফেরত দেব-দিচ্ছি করে আক্তারকে ঘুরাতে থাকেন মাহমুদা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কয়েক দফা বাগবিতণ্ডা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আক্তারকে তার পাওনা টাকা ফেরত দেবেন বলে বাড়িতে ডাকেন মাহমুদা। এ সময় আবারও কয়েক দফায় তর্কে জড়ান আক্তার এবং মাহমুদা। ঝগড়া করতে করতে একসময় মাহমুদাকে মাথায় আঘাত করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন আক্তার। এ ঘটনা দেখে ফেলায় মাহমুদার ৯ বছরের ছেলে সাহাত এবং ভাতিজি তিশাকেও মাথায় আঘাত করে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে তিনজনের মরদেহ একটি খাটের ওপর রেখে পালিয়ে যান আক্তার।

ওসি জয়নাল আবেদীন বলেন, তিনজনকে হত্যার ঘটনায় নিহত মাহমুদার বাবা মামলা করার পর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশ। তদন্তে হত্যাকারী আক্তারকে শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে শ্রীমদ্দি চরের গাও এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার আদালতে তোলা হলে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আক্তার।

গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে কুমিল্লার হোমনার বড় ঘাগুটিয়া এলাকায় শাহপরানের ঘরে তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এর আগে, বুধবার রাতের কোনো একসময় তিনজনকে হত্যা করে মরদেহ একটি খাটের ওপর ফেলে রাখা হয়।

নিহতরা হলেন- বড় ঘাগুটিয়া এলাকার মো. শাহপরানের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, তাদের ৯ বছরের ছেলে সাহাত এবং প্রতিবেশী মামাতো ভাইয়ের মেয়ে তিশা।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই নিহত মাহমুদার বাবা আবুল হোসেন হোমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘাতক আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!