ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঠাঁই হচ্ছে না হাসপাতালের ফ্লোরেও, গরমে অতিষ্ঠ রোগীরা

কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১৪:৩৫, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
ঠাঁই হচ্ছে না হাসপাতালের ফ্লোরেও, গরমে অতিষ্ঠ রোগীরা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে প্রচুর রোগী ভর্তি হয়েছেন। শয্যা দূরের কথা অনেক রোগী ফ্লোরেও জায়গা পাচ্ছেন না। অনেকে হাসপাতালের সিঁড়ির নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। একজন রোগীর ছুটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শয্যা পেতে অন্য রোগীরা ছুটোছুটি করছেন। ফ্লোরে জায়গা পাওয়া অনেক রোগীদের কাছাকাছি কোনো ফ্যান নেই। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন বয়স্ক নারী-পুরুষসহ শিশুরা।

সদর উপজেলার চর সিরতা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে কাউসার মিয়া। তিনি গত কয়েকদিন ধরে বুক জ্বালাপোড়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শয্যা না পেয়ে সিঁড়ির কোণে বিছানা পেতে শুয়ে ছিলেন তিনি।

কাউসার মিয়া বলেন, গত চারদিন আগে বুকে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এমতাবস্থায় হাসপাতালে আসলে মেডিসিন বিভাগের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শয্যা ও ফ্লোরে জায়গা না পেয়ে সিঁড়ির কোণে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছি।

Advertisement

একই ওয়ার্ডের রোগী আরাফাত হোসেন বলেন, যারা শয্যা পেয়েছে তারা কিছুটা হলেও আরামে চিকিৎসা নিতে পারছে। আমি গত তিনদিন ধরে ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছি। কাছাকাছি কোনো ফ্যানও নেই। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি।

৩২ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু বিভাগের ফ্লোরে শিশুকে নিয়ে বসে ছিলেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর কালিবাড়ি এলাকার মর্জিনা খাতুন। তিনি বলেন, ৮ মাস বয়সের শিশু বাচ্চার পাতলা পায়খানা। বুকে পর্যাপ্ত দুধ থাকলেও বাচ্চা খায় না। বাচ্চা দিন দিন শুকিয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাচ্চার কষ্ট হওয়ায় হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরাহাসপাতাল সূত্র জানায়, এক হাজার শয্যার এই  হাসপাতালে বর্তমানে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকছেন তিনগুণেরও বেশি। শয্যা সংকটের কারণে প্রতিদিন হাজারো রোগীকে মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও নার্সরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, গরমে রোগবালাই বেড়ে যাওয়ায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই গরমে ডায়রিয়া, ভাইরাস জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক শিশু ও বৃদ্ধরা। অন্যান্য রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!