ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সাঁকো দিয়ে ভাঙা সেতু পারাপার, দুর্ভোগ

এম. সুরুজ্জামান, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) 
প্রকাশিত: ১৪:০৫, ৫ এপ্রিল ২০২৪
সাঁকো দিয়ে ভাঙা সেতু পারাপার, দুর্ভোগ
সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতু পারাপার

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে সেতু। তার ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে এলাকাবাসী। এভাবে খাল পারাপার হতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রায় ৮ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১০ হাজার মানুষ। সেতুটি শেরপুর সদর উপজেলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় সংযোগ স্থাপন করেছে। কলসপাড় ইউনিয়নের পশ্চিম কলসপাড় ও গাজিরখামার ইউনিয়নের কাওয়াপেঁচি গ্রামের ইউপি সদস্য মমছের আলীর বাড়ির পাশে এই সেতুর অবস্থান। ভাঙা সেতুর স্থলে নতুন সেতু নির্মাণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাগবে ২০১৭ সালের শেষদিকে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের দুই বছরের মধ্যে বর্ষা মৌসুমে খালের পানির স্রোতে সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। ফলে যাতায়াতে সমস্যায় পড়েন খালের দুই পাড়ের বাসিন্দারা। 

ভাঙা সেতুতে বাঁশের সাঁকো

Advertisement

পরে নিজেদের চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয়রা নিজ খরচে তৈরি করেন বাঁশের সাঁকো। সেতুটির পশ্চিম দিকে ঈদগাহ মাঠ, একটি নূরানী মাদরাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পূর্ব পাশে একটি জামে মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও গ্রাম্য হাট রয়েছে। এই সেতুর ওপর দিয়ে নালিতাবাডী উপজেলার পশ্চিম কলসপাড়, হাটখোলা, সুতারবাড়ি, শেরপুর সদর উপজেলার কুড়ালিয়াকান্দা, বজরকান্দা, খরখরিয়া, নাটুঘোষ ও বানিয়াপাড়া গ্রামের শত শত মানুষ চলাচল করে। কিন্তু সেতুটি চলাচল অযোগ্য হওয়ায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। 

স্থানীয়রা জানান, গত প্রায় আড়াই বছর ধরে সেতুটি ভেঙে পড়ে আছে। এই সেতুর ওপর দিয়ে তাদের প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। এমনকি মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে অনেক দেরি হয়। এছাড়া উৎপাদিত ফসল বাজারে গিয়ে বিক্রি করতেও পারছেন না গ্রামবাসী। তাই এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করার জোর দাবি জানান তারা। 

ওই এলাকার কাওয়াপেঁচি গ্রামের বাসিন্দা মামুন বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে খুব কষ্টে চলাচল করছি। এমতাবস্থায় এখানে জরুরিভাবে একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, এখানে নতুন সেতু নির্মাণ না করায় আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। তাছাড়া খুদে শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে সেতু পারাপার হতে ভয় পায়। 

ভাঙা সেতু

সংশ্লিষ্ট গাজিরখামার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওলাদুল ইসলাম বলেন, আমি সেতুটি পরিদর্শন করেছি। এই সেতুটি ত্রাণের বরাদ্দ থেকে করা হয়েছিল। এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, ওই সেতুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!