মৃত আবু বক্কর দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের সদাবরী গ্রামের ঈদগাহ পাড়ার সওদার মন্ডলের বড় ছেলে। রাতেই তার নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে ১৪ বছর আগে ওমানে যান আবু বক্কর (৩৫), তারপর ওমান থেকে যান দুবাইয়ে। সেখানে দীর্ঘদিন থাকার পর আবার চলে আসেন ওমানে। ওমানে কিছুদিন থাকার পর অবৈধ পথে যান লিবিয়ায়। বেশ কিছুদিন থাকার পর দালালদের মাধ্যমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে আবার ইউরোপীয় দেশ ইতালিতে যান। সেখানে প্রায় ৩ বছর থাকার পর গত ১ মার্চ আবু বক্কর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
.png)
চলতি বছর ছুটিতে বাড়ি ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল আবু বক্করের। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বাড়ি ফেরা হলো না আবু বক্করের। ফিরলেন লাশ হয়ে।
গত ১ মার্চ বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টার দিকে ইতালি থেকে ফোন আসে নিজ বাসভবনে রাতে আবু বক্কর অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। এমন খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা পরিবারে।
এদিকে, দীর্ঘ ২০ দিন পর আবু বক্করের লাশ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
বাবা সওদার বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘ ১৪ বছর আগে বিদেশে যায়। একটি ফার্মে কাজ করতো। গত ১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে ঐ দেশে থাকা ছেলের বাংলাদেশি সহকর্মীরা ফোন করে তার মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের জানায়। ছেলের মুখটি দেখার জন্য দীর্ঘ ২০ দিন আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। ছেলের মুখটি দেখতে পেয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই।
বৃহস্পতিবার রাতে সদাবরী নিজ গ্রামের কবরস্থানে নামাজের জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়।