মঙ্গলবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধর্মগঞ্জ চতলার মাঠ এলাকা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের দাবি, নিহত আনোয়ারের দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার সন্তান পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
.png)
নিহত আনোয়ার শরিয়তপুরের ঘোষারহাট থানার মোল্লাপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোচালক। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে চটলার মাঠস্থ রুমা গার্মেন্টস এলাকায় ভাড়া বসবাস করতেন তিনি।
নিহতের বোন আখি আক্তার জানান, তার ভাই আগে একটা বিয়ে করেছিলেন। সেই সংসারে অনিতা (১২) নামের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় বিচ্ছেদ হয়। চার বছর আগে তার ভাই গোপনে উম্মে কুলসুম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তারও আগে বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে ছেলে হৃয়ন (১৫) ও রিংকি (১৯) নামের একটি মেয়ে রয়েছে। মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায়।
বর্তমানে নিহত আনোয়ার তার দ্বিতীয় স্ত্রী উম্মে কুলসুম ও ছেলে হৃয়নকে নিয়ে চতলার মাঠ এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে দ্বিতীয় স্ত্রী ও ছেলে হৃয়ন ফোন করে তাকে জানান, তার ভাই আনোয়ার হোসেনের বুকে ব্যথা উঠেছে। এ কারণে প্রথমে তাকে ভিক্টোরিয়া পরে খানপুর হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এমন সংবাদ পেয়ে নিহতের বোন আখি আক্তার দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন আনোয়ার নামের কোনো রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়নি। তখন তিনি হৃদয়কে ফোন করলে জানতে পারেন আনোয়ার মারা গেছেন এবং লাশ বাসায় নিয়ে এসে তাড়াতাড়ি দাফন করা হচ্ছে।
ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, ৯৯৯ -এ ফোন পেয়ে তিনি রাত সাড়ে ১২টার দিকে চতলার মাঠ গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠান। লাশের বুকে, পেটে ও পিঠে একাধিক আঁচড়ের চিহ্ন দেখা গেছে।
তিনি আরো জানান, নিহতের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।