মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাসিম মাহমুদের আদালতে হত্যায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি। এ সময় মামলার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মাহেন্দ্রচালক মো. গানু বেপারী ও রিকশাচালক মো. তাবেল বেপারী।
ওইদিন দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম।
.png)
তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পাবনা জেলার নতুন গোহাইলবাড়ি গ্রামের মিলন প্রামানিকের। তিনি রাজবাড়ি জেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে যাতায়াতের সুবাদে রোজিনা আক্তার নামে এক যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। এরপর তাদের মধ্যে টাকা লেনদেন নিয়ে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মিলনের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন রোজিনা।
স্বীকারোক্তিতে রোজিনা বলেন, মা তুলে গালি দেওয়ায় রাগের মাথায় আমি তাকে হত্যা করেছি। তার কাছে টাকা পাইতাম। সেই টাকার জন্য ঝগড়া হয়।
তিনি আরো বলেন, শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনালে ফেলে যাওয়া একটি লাগেজ থেকে অজ্ঞাতনামা মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সিসি টিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোজিনা বেগমের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং রাজধানী ঢাকার কদমতলীর জুরাইনের দেওয়ান বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলার পর কোতোয়ালি থানার এসআই শামীম হাসানের নেতৃত্বে ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজার থেকে মাহেন্দ্র গাড়ি শনাক্ত করে চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে, লাগেজ বহনকারী রিকশাচালককে আটক করার পর পাওয়া যায় রোজিনার সন্ধান।
তবে দৌলতদিয়ার যৌনপল্লির রুবেল মাতুব্বরের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় রোজিনার ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোজিনাকে জুরাইনের দেওয়ান বাড়ির ষষ্ঠতলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার রোজিনা পুলিশকে জানান, নিহত মিলন তার ঘরে মাঝেমধ্যেই যেতেন। ঘটনার আগের দিন মিলন তার ঘরে যান। রাত ২টার দিকে তাদের মাঝে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ হয়। একপর্যায়ে মা তুলে গালি দিলে মিলনের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন রোজিনা। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত হলে খাট থেকে নামিয়ে মরদেহটি কম্বল, বড় বেডশিট ও বালিশের কাভার দিয়ে মুড়িয়ে তার ঘরে থাকা বড় একটি লাগেজের মধ্যে রাখেন।
পরে মরদেহ গুম করতে প্রথমে ৬০০ টাকা ভাড়ায় একটি রিকশায় করে মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে নেন। সেখান থেকে ৬০০ টাকা ভাড়ায় মাহেন্দ্রতে উঠিয়ে দৌলতদিয়া থেকে ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে আসেন। সেখানে ঢাকাগামী বিকাশ পরিবহনে একটি টিকিট কাটেন এবং লাগেজটি গাড়ির মালামাল রাখার বাক্সে রেখে নাস্তা করার কথা বলে পালিয়ে যান। তবে গাড়ি ছাড়ার নির্ধারিত মুহূর্তে মালিক না পেয়ে গাড়ির লোকেরা লাগেজটি বাস টার্মিনালে রেখে যান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান।