ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঐতিহ্য ধরে রাখতে লক্ষ্মীপুরে পিঠা উৎসব 

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ২১:৩২, ১৮ জানুয়ারি ২০২৪
ঐতিহ্য ধরে রাখতে লক্ষ্মীপুরে পিঠা উৎসব 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করে দিতে লক্ষ্মীপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দিনব্যাপী পিঠা পুলির উৎসব। 

উৎসবে অংশ নিয়েছে বিভিন্ন বয়সী কয়েক হাজার নারী পুরুষ। ধুম পড়েছে পিঠা বেচাকেনায়। প্রায় দেড় শতাধিক পিঠার ফসরা সাজিয়ে বসেছে লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ১০ বছর যাবত এমন আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। 

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করে দিতে দিনব্যাপী পিঠা পুলির এই উৎসব। উৎসবটি বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়ে গেছে। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা শহরের বাগবাড়ি স্কুল ক্যাম্পাস মাঠে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করেন লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। উৎসবে অংশ নেয় জেলার বিভিন্ন বয়সী কয়েক হাজার নারী পুরুষ। ধুম পড়েছে রকমারী পিঠা বেচাকেনা। এতে স্থান পায় গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া বাহারি পিঠা। 

বিশেষ করে পাটিসাপটা, মালপোয়া, ব্রেড, চুই, দই, জামাই পিঠা, সিঙ্গেরা পিঠা, মালাই পিঠা, পাঁচ পিঠা, জুনজনি পিঠা, নারিকেলের পিঠা, ডিমের পিঠা, দুধচিতই, দুধপুলি, কমলা পুলি, ইলিশ পিঠা, বউ পিঠা ও পানতুয়া, তাল ও জাল সহ দেড়শতাধিক পিঠার সমারোহ। কনকনে শীতে গরম গরম হরেক রকম পিঠার স্বাদ নিতে ছুটে এসেছে অনেকে।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উৎসবে মেতেছে শিক্ষকরাও। আলাদা স্টল দিয়ে গরম গরম পিঠা বানিয়ে বিক্রি করছেন আবার আগত অতিথিদের আপ্যায়নও করছেন তারা। পিঠাপুলি উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে অংশ নিয়েছে অভিভাকরাও। 

বিভিন্ন স্টলে গিয়ে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের পিঠা বিক্রিতে সহযোগিতা করছেন তাদের অভিভাকরা, আবার একই ক্লাসের সহপাঠিরা যৌথভাবে পরস্পর পিঠা বিক্রিতে সহযোগিতা করছেন। বিভিন্ন নামের ও রংয়ের মুখরোচক পিঠার মনোমুগ্ধকর প্রদর্শন দেখা গেছে পুরো উৎসবে। 

লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ উপাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান সবুজ বলেন, বাংলার আবহমানকালের এই পিঠা উৎসব নতুন প্রজন্মকে হরেক রকমের পিঠার সঙ্গে পরিচিতি করার পাশাপাশি বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানতে সহায়তা করবে। বিগত ১০ বছর যাবত এমন আয়োজন করে আসছি।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভা মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া বলেন, উৎসবটা একটা সত্যিকারের উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ যেন একটা মিলনমেলা। যেমন ছাত্র ছাত্রীরা মজা করছে পিঠা খাচ্ছে এবং পিঠা সম্পর্কে পরিচিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজনে আমিও অভিভূত। 

তিনি আরো বলেন, অনেক পিঠার সম্পর্কে আমারও জানা নেই। ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজিত পিঠা উৎসবে এসে  গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য অনেক পিঠার সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছি। এমন আয়োজন প্রত্যেকটা স্কুলে করা প্রয়োজন। তাহলে আমাদের যে শিক্ষার্থীরা আছে তারা বাঙালির ঐতিহ্য বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে নতুন করে ধারণা পাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!