পুলিশ জানায়, ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর বারাহীগুনী সামছুল হক ভূঞা বাড়িতে নিজ ঘর থেকে পারুল আক্তার নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত পারুল আক্তার ওই বাড়ির প্রবাসী আতাউর রহমানের স্ত্রী ও জায়লস্কর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মতিন চৌধুরীর ছোট বোন। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় মামলা রেকর্ড হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার কোনো কারণ অথবা ঘটনায় সম্পৃক্ত কাউকে অভিযুক্ত করতে পারেননি ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্বজনরা।
রোববার রাতে ফেনী সদর উপজেলার মাথিয়ারা জেলে বাড়ি থেকে মোবারক হোসেন নামে এক যুবককে এ ঘটনায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে ওই যুবক ঘটনার বিস্তারিত পুলিশকে জানালে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে। পরে তিনি আদালতে ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আরো ২ জনের নাম জানান।
.png)
মোবারক হোসেন জানান, ওই রাতে তারা ৩ জন পারুলের ঘরে চুরি করতে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে পারুল তার মোবাইলে ভিডিও করতে থাকেন। বিষয়টি দেখে মোবারকসহ তার সঙ্গীরা ওই নারীর হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। মোবাইলটি নিতে না পেরে ওই নারীর মাথায় আঘাত করে চোরের দল। এতে ওই নারীর মৃত্যু হলে তারা পালিয়ে যান। সোমবার মোবারকের স্বীকারোক্তি মোতাবেক বাকি ২ জন আসামিকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- লক্ষ্মীপুরের টুমচর এলাকার মঈন উদ্দিনের ছেলে মোবারক হোসেন (২০)। তিনি বেশ কিছুদিন যাবত ফেনী সদর উপজেলার মাথিয়ারা জেলে বাড়ির প্রবাসী তারেকের বাসায় থাকতেন। অপর আসামিরা হলেন- ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা আফজল মিস্ত্রি বাড়ির সেলিমের ছেলে ইহাব হোসেন শুভ (২০) ও ঘটনাস্থল সংলগ্ন উত্তর বারাহীগুনী এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে আব্দুল আউয়াল প্রকাশ সাদ্দাম (৩৬)।
দাগনভূঞা থানার ওসি আবুল হাসিম জানান, জায়লস্কর ইউনিয়নের আলোচিত গৃহবধূ পারুল হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন আসামি মোবারক আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। স্বীকারোক্তিতে উঠে আসা ঘটনায় সম্পৃক্ত শুভ ও সাদ্দাম নামের আরো ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।