ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

উৎসবমুখর ঐতিহ্যবাহী বেতিলার রাস মেলা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২৮, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩
উৎসবমুখর ঐতিহ্যবাহী বেতিলার রাস মেলা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে মানিকগঞ্জের বেতিলা বাজার মাঠে জমে উঠছে ঐতিহ্যবাহী রাস মেলা। প্রায় সাড়ে ৫শ’ বছর ধরে চলে আসছে এ রাস উৎসব ও মেলার আয়োজন। যুগ যুগ ধরে এই রাস মেলা হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে পূর্ণ তীর্থ ঐতিহ্য বহন করে আসছে।

মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। গ্রামীণ এ মেলায় বিকেল থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন শিশুসহ নানা বয়সী মানুষ। মেলা চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। পছন্দের জিনিসপত্র কিনতে দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন দোকানগুলো। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা বেশ উপভোগ করছেন মেলার আয়োজন।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশসরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উৎসবকে ঘিরে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে পুরো গ্রাম। এ মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। হরের রকম মিষ্টির দোকান, বাচ্চাদের খেলার জিনিসপত্র, কসমেটিকস, গৃহস্থালি পণ্য, খাবারের দোকান ও বিভিন্ন খেলার রাইডসসহ প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে মেলায়। প্রতিদিন এ মেলায় বিক্রি হয় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার পণ্য।

Advertisement

মেলায় ঘুরতে আসা আব্দুস সালাম খান জানান, প্রতিবছর এই মেলায় আসি পরিবার নিয়ে। ছোটবেলায় বাবা, দাদার সঙ্গে বিভিন্ন মেলায় ঘুরে বেড়িয়েছি। অনেক স্মৃতি আছে মেলাকে ঘিরে। আগের মতো এখন আর মেলা হয় না। আর যেগুলো হয় তাতে গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া নেই বললেই চলে। তবে বেতিলা রাস মেলায় সেই আগের অনুভূতিটা পাই। তাই পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি।

সিয়াম আহম্মেদ নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করে তার খালাতো ভাই মশিউর রহমানকে নিয়ে মেলায় এসেছে ঘুরতে। তার সঙ্গে কথা হলে সে বলে, মেলায় ভাইকে নিয়ে আসছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরবো। তারপর ভূতের বাড়িতে গিয়ে সেটা দেখে কিছু খেয়ে বাড়ি চলে যাবো। মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে আমাদের। কারণ, এবার পরীক্ষা আগেই শেষ হয়ে গেছে।  

৬৫ বছর বয়সী আব্দুর রহমান। তিনি তার ১০ বছর বয়সী নাতনিকে নিয়ে এসেছেন গ্রামীণ এই মেলায়। জানতে চাই আগের মেলার সঙ্গে এখনকার মেলার পার্থক্য। তিনি বলেন, আগে মেলায় সার্কাস, যাত্রার আয়োজন থাকতো। দূর থেকে সেই যাত্রা দেখার জন্য মানুষ এই মেলায় আসতো। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই যাত্রা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবুও এই মেলায় গ্রামীণ ছোঁয়া আছে। নাতনিকে একটা টমটম, চরকি ও পুতুল কিনে দিয়েছি।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশএই মেলার প্রধান আর্কষণ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। মেলাকে ঘিরে মিষ্টির বাণিজ্য বেশি হয়ে থাকে বলে এই মেলায় অনেকগুলো মিষ্টির দোকান বসেছে। দোকানগুলোতে রসমালাই, জিলাপি, চমচম, কালোজাম, কালাইয়ের আমিত্তি, হালকা শিরার মিষ্টি, ছানার জিলাপি, ছানার মিষ্টি, রসগোল্লা ও বালিশ মিষ্টি। এখানে ঘুরতে আসা সবাই থাপরানো রুটি বা পরোটার সঙ্গে মিষ্টি খান। বাসার জন্যও কিনে নিয়ে যান।

মিষ্টি ব্যবসায়ী সুকুমার ঘোষ জানান, মেলায় পাঁচটা বড় দোকান আছে। প্রতিদিন দুপুর থেকে আমাদের বেচাকেনা শুরু হয়। প্রতিটি দোকানেই ১০ থেকে ১২ প্রকারের মিষ্টি তৈরি করা হয়। প্রতিদিন গড়ে একেকটা দোকানদার ৫০ থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকার মিষ্টি বিক্রি করে থাকেন।

বেতিলা রাস মেলা উদযাপন কমিটি সদস্য মাহফুজুর রহমান প্রিন্স জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ১০ দিনব্যাপী রাস মেলা শুরু হয়েছে। এ মেলায় আমরা গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করি। গৃহস্থালি পণ্য থেকে শুরু করে খাবারের বিভিন্ন দোকান এখানে আছে। মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শনার্থী ছাড়াও ভারত থেকে আসেন অনেক গুণগ্রাহী। এ মেলায় প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার বেচাকেনা হয় বলে জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!