এর আগে, রোববার নগরের বাকলিয়া থানার সৈয়দ শাহ্ রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রাশেদা বেগম কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার জাকির হোসেনের মেয়ে।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী ওমর ফারুফ বাপ্পী পাঁচ থেকে ছয় বছর চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে আইন পেশার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বিভিন্ন মামলা পরিচালনার সুবাদে রাশেদা বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। একপর্যায়ে উভয়ের সম্মতিতে তারা বিয়ে করেন। বিয়ে পরবর্তী দাম্পত্য কলহের জেরে একে অপরের বিরুদ্ধে নগরের পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার পর স্ত্রী রাশেদার দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করে দেন বাপ্পী। এরপরও তাদের মধ্যে লেগেছিল কলহ।
.png)
২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সারাদিনের কার্যক্রম শেষে নগরের চকবাজার থানার কে বি আমান আলী রোডের ভাড়া বাসায় ফেরেন বাপ্পী। পরদিন ২৫ নভেম্বর সকাল ৬টার দিকে বাড়ির দারোয়ান তার কক্ষের দরজা খোলা দেখতে পেলে বাড়ির মালিকসহ গিয়ে দেখেন- হাত-মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো ও দুই পা লাল ফিতা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে বাপ্পীর লাশ। বিষয়টি বাপ্পীর বাবাকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে থানায় খবর দেন। এরপর লাশটি উদ্ধার করে চকবাজার থানা পুলিশ। ঐ ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা করেন বাপ্পীর বাবা। মামলায় বাপ্পীর স্ত্রী রাশেদা বেগমকে প্রধান করে মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়।
মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ শুরু করেন আদালত। সর্বমোট ৩২ সাক্ষীর মধ্যে ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার (২৬ জুলাই) রাশেদা বেগম ও হুমায়ুন রশিদকে মৃত্যুদণ্ড এবং আল আমিন, আকবর হোসেন রুবেল ওরফে সাদ্দাম ও মো. পারভেজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় হুমায়ুন রশিদ ও মো. পারভেজ আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পলাতক ছিলেন রাশেদা বেগম, আল আমিন ও আকবর হোসেন রুবেল।
র্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার বলেন, মামলাটির রায় ঘোষণার পর থেকেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি রাশেদা বেগমসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার নগরের বাকলিয়া থানার সৈয়দ শাহ্ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাশেদা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার এড়াতে সেখানে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে বাকলিয়া ও কোতোয়ালি থানায় আগের দুইটি মামলা রয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।