শনিবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার। এর আগে, শুক্রবার সকালে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মো. শাহ পরান ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার পূর্ব হাসনাবাদ এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে।
.png)
র্যাব জানায়, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ভুক্তভোগীর বড় বোন দেলোয়ারা বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় শাহ পরানের। বিয়ের পর থেকে সংসারের অভাব অনটনসহ পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দেলোয়ারা বেগমকে শারীরিক নির্যাতন করতেন শাহ পরান। নির্যাতন সইতে না পেরে একপর্যায়ে শাহ পরানকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান দেলোয়ারা বেগম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময় তাকে হত্যার হুমকি দিতেন শাহ পরান।
২০১০ সালের ১ এপ্রিল রাতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন দেলোয়ারা বেগম ও তার ১০ বছর বয়সী ছোট বোন ফারহানা ইয়াছমিন ওরফে রিকা মনি। ঐ রাতে আনুমানিক ৪টার দিকে দেলোয়ারা বেগমকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের ঘরে ঢোকেন শাহ পরান ও তার ভগ্নিপতি নাসির ওরফে নাসিম। এরপর ঘুমন্ত দেলোয়ারা বেগমের বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করেন শাহ পরান।
ঐ সময় দেলোয়ারা বেগমের চিৎকারে তার মা ও ছোট বোন ফারহানা ইয়াছমিন ঘুম থেকে জেগে আসামিদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আসামি শাহ পরান তার হাতে থাকা ছোরা দিয়ে ফারহানা ইয়াছমিনের পেটে একাধিকবার আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই ফারহানা মারা যান।
পরে ফারহানার মায়ের চিৎকারে তার ভাই এবং প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে হাতে থাকা ছোরা ও ব্লেড ফেলে পালিয়ে যান আসামিরা। পরদিন ২ এপ্রিল এ ঘটনায় ভুজপুর থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ফারহানার মা দেলোয়ারা বেগম।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহ পরানকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যা মামলা চলাকালীন সময়ে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হন শাহ পরান। পরে ঐ মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘ ১৩ বছর চট্টগ্রাম নগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। গ্রেফতারের পর তাকে রাউজান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।