আহত সাংবাদিক হলেন কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পৌর শহরের রাধানগরের দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দেবগ্রামের মাহফুজ ভূঁইয়ার ছেলে সুমন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। আহত সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল রাধানগর এলাকার বাসিন্দা। এ সময় সাংবাদিককে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন তার চাচাতো ভাই আনন্দ পাল (২৮) ও প্রসেনজিৎ পাল (২৮)।
.png)
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দেবগ্রামের বাসিন্দা সুমন ভূঁইয়া স্ত্রীসহ ছয় মাসের শিশু সন্তান নিয়ে ডাক্তার দেখাতে রাধানগরের দাসপাড়ার দি কমফোর্ট অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসেন। ওই ক্লিনিকে থাকা চিকিৎসক কাজী মাজহারুল ইসলামের কাছে শিশু সন্তানকে নিয়ে যান সুমন। চিকিৎসক থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে চেম্বার হতে বের হন সুমন। সে সময় ক্লিনিকের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে সালমা আক্তার সুমনের কাছে চিকিৎসকের ৪০০ টাকা ভিজিট চান। এতে ক্ষিপ্ত হন সুমন। একপর্যায়ে সালমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা শুরু করেন সুমন। পরে ঘটনাস্থলে এগিয়ে ক্লিনিকের একজন আশিষ সাহার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। চিকিৎসক দেখানোর ভিজিট না দিয়েই ক্লিনিকের মালিককে ভয় ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান সুমন। বিকেল ৬টার দিকে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসক দেখাতে যান সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল। এ সময় সুমন ২০-২৫ জন লোক নিয়ে ওই ক্লিনিকে যান।
সুমনের নেতৃত্বে লোকজন ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক সালমাকে তুলে নিতে এগিয়ে যান। তখন এ ঘটনার প্রতিবাদ করে বাধা দিতে গেলে তারা সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালান। সাংবাদিককে বাঁচাতে অন্যরা এগিয়ে গেলে শান্ত পাল ও আনন্দ পালকে তারা মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
হামলায় সাংবাদিক তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। আহতদের উদ্ধার করে সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
আহত সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ক্লিনিক থেকে একটি মেয়েকে তারা তুলে নিতে আসেন। আমি তখন নিজেকে ওই মেয়ের অভিভাবক হিসেবে পরিচয় দিই। তারা আমাকে তখন বলে তুই গার্ডিয়ান, দাঁড়া। এই বলে আমার ওপর হামলা করেন। রাধানগর মোড়ে থাকা আমার দুই ভাই ঘটনা দেখে আমাকে বাঁচাতে আসেন। তাদের ওপরও সন্ত্রাসী কায়দায় তারা হামলা চালিয়েছেন।
আখাউড়া থানার ওসি মো. আসাদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখে এসেছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের তিনটি টহল দল বের হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।