সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নির্মল মিত্র একজন কাঠমিস্ত্রী ছিলেন। তিনি মধুখালী উপজেলার মেঘচামি গ্রামের নববন গ্রামের বাসিন্দা নিমাই মিত্রের ছেলে। নির্মলের স্ত্রী ফুলমালার সঙ্গে তার মেয়ের শ্বশুর নীল কমল মন্ডলের অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি ফুলমালার স্বামী নির্মল মিত্র জেনে গেলে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এ অবস্থায় ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি নিজবাড়ি থেকে নির্মল মিত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়।
.png)
এ ব্যাপারে নিহতের ছোট ভাই পরিমল মিত্র (৪৩) বাদী হয়ে ফুলমালা ও নীল কমল মন্ডলের আসামি করে ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, মেয়ের শ্বশুরের সঙ্গে গড়ে ওঠা অনৈতিক সম্পর্কের পথ সুগম করতে স্বামী নির্মলকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান ফুলমালা। এরপর গভীর রাতে ফুলমালা ও নীল কমল মন্ডল তার গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
এ মামলা হওয়ার পরদিন ১৪ জানুয়ারি ফুলমালার মেয়ের শ্বশুর নীল কমল বিষপানে আত্মহত্যা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুখালী থানার এসআই তোতা মিয়া গত ২০২১ সালের ১ এপ্রিল ফুলমালাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায় ঘোষণার পর এ মামলার রাষ্ট্র পক্ষের কৌঁসলি (পিপি) নওয়াব আলী মৃধা বলেন, মেয়ের শ্বশুরের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্বামীকে হত্যা করেন ফুলমালা। এ রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং সমাজের শৃঙ্খলা বিধানে এ রায় ভূমিকা রাখবে।