গত কয়েকদিনের মাঝারি তাপপ্রবাহের পর তাপদাহ ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ফরিদপুরে বৃহস্পতিবার থার্মোমিটারে তাপমাত্রার পারদ ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে উঠেছে। এটি এযাবৎকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এ তাপপ্রবাহ আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
.png)
জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা তাপপ্রবাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। দুপুর গড়াতেই প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে মাঠ-ঘাট ফাঁকা হয়ে পড়ছে। পথচারীরা গাছের ছায়া পেলেই একটু বিশ্রাম নিয়ে নিচ্ছেন। মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরাও এখন হাঁসফাঁস করছে। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বয়স্ক ও শিশুরা। এর প্রভাব পড়ছে রোজাদারদের মাঝে। রোজার দুই-তৃতিয়াংশ শেষ হয়ে এসেছে। তবে তীব্র গরমে জমে উঠছে না ঈদের বাজার। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রস্তুতিতেও লেগেছে ভাটার টান।
এদিকে, তীব্র তাপদাহের কারণে নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও রিকশাচালকেরা বিপাকে পড়েছেন।
রিকশাচালক শহিদ মোল্যা বলেন, ‘ঘরে কোনো খাবার নেই বলে সকালে বের হয়েছিলাম রিকশা নিয়ে। কিন্তু রাস্তাঘাটে যাত্রী পাইতেছি না’।
সোহান নামে এক রাজমিস্ত্রীর হেলপার বলেন, ‘এতো গরমের কারণে গত দুইদিন কাজে যাইতে পারি নাই। এখন ঘরে খাবার নাই তাই বাড়িতেও বসে থাকতে পারতেছি না। এতো গরম আমি আমার জীবনেও দেখি নাই’।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চরদুর্গাপুরে রান্নাঘর হতে আগুন লেগে কয়েকটি বসতবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। এর আগের দিন সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর বাজারকান্দি গ্রামে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে চারটি পরিবারের ৯টি ঘর ও মূল্যবান আসবাবপত্র।