এমনই এক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা ডিবি পুলিশ। চক্রটি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে এ কাজে সহায়তা করতো। দীর্ঘদিন ধরে চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সার্ভার হ্যাক করে রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন সনদ ও পাসপোর্ট তৈরি করে আসছিল চক্রটি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলার এসপি এসএম শফিউল্লাহ।
.png)
গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. আরিফ, মো. জসিম উদ্দিন ও মো. তারেক।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আরিফ নিজের বোন পরিচয় দিয়ে আফরোজা আক্তার নামে এক নারীর পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশের কাছে কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। তবে বাস্তবে আফরোজা আক্তার ছিলেন রোহিঙ্গা। তার ঠিকানা দেখানো হয় চন্দনাইশ পৌরসভার দক্ষিণ গাছবাড়িয়া এলাকায়। কিন্তু ঐ ঠিকানায় আফরোজা নামে সেই নারীর কোনো অস্তিত্ব পায়নি পুলিশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ভুয়া ঠিকানায় রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট করে দেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যে জসিম উদ্দিন ও তারেককে গ্রেফতার করা হয়।
এসপি এস.এম শফিউল্লাহ বলেন, গ্রেফতার চক্রের তিন সদস্য রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে দিতেন। পরে সেই সনদ দেখিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে দিতেন। এজন্য রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নিতেন তারা। তাদের কাছ থেকে বেশকিছু জন্ম নিবন্ধন সনদ উদ্ধার করা হয়েছে। সবগুলোই রোহিঙ্গাদের।
তিনি আরো বলেন, এ চক্রের একজন টেকনিক্যাল পার্সন আছেন। তাকে ধরতে পারলে কোন পদ্ধতিতে তারা সার্ভার হ্যাক করে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে দিচ্ছেন তা জানতে পারবো। এখানে বিভিন্ন ইউনিয়ন কাউন্সিলরের স্বাক্ষরও জাল করছেন তারা। এসব জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে যেন পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করেছি। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।