ভৈরবে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৩০
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে স্কুলশিক্ষার্থীকে উত্যক্ত করা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ৩ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পৌর শহরের চন্ডীবের ও পলতাকান্দা গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগসহ সাতটি বসত ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পুলিশ রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পলতাকান্দা গ্রামের স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে আসা-যাওয়ার পথে চন্ডীবের গ্রামের বখাটে কয়েকজন যুবক উত্যক্ত করে আসছিল। এরই জের ধরে গতকাল রাতে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পলতাকান্দা গ্রামের লোকজন চন্ডীবের গ্রামের লোকজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগসহ বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
.png)
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে রাস্তা আটকে দেয় চন্ডীবের গ্রামের লোকজন। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে এ পথে চলাচলকারী যানসহ লোকজন। খবর পেয়ে পৌর মেয়রের নির্দেশে রাস্তাটি খুলে দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পলতাকান্দা গ্রামের উত্যক্তের শিকার শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে আমার মেয়েকে চন্ডীবের গ্রামের নবী হোসেন ছেলে রিয়াদ উত্যক্ত করে আসছে। এ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে।
চন্ডীবের গ্রামের নবী হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগসহ বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এতে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভৈরব থানার ওসি মো. গোলাম মোস্তফা জানান, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।