বাবার লাশ দাফনের প্রস্তুতি, হঠাৎ বাড়ি ফিরে যা করলেন ছেলে
জানাজার জন্য জড়ো হয়েছেন শতাধিক মানুষ। পাশেই কফিনে মোড়ানো লাশ। খোঁড়া হয়েছে কবরও, জানাজা শেষেই দাফন। এমন সময় হঠাৎ বাড়ি ফিরে বাবার লাশ দাফন বন্ধ করে দিলেন গৃহত্যাগী এক সন্তান।
৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে, একইদিন সকালে ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় মারা যান জালাল উদ্দিন নামে ঐ বৃদ্ধ।
পারিবারিক সূত্র জানায়, জালাল উদ্দিনের চার ছেলে। মেজো ছেলে নুরুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ভালো ছিল না। অনেক বছর আগে তিনি বাড়ি ছেড়েছেন। বাবা-মার খোঁজও নেননি। মাঝেমধ্যে এলাকায় গিয়ে বাবা-ভাইদের হুমকি দিয়ে আসতেন। এসব ঘটনায় বছর খানেক আগে নুরুল ইসলামের নামে থানায় জিডিও করেছেন বাবা জালাল উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার জালাল উদ্দিনের সন্তানরা জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু জানাজার ঠিক আগমুহূর্তে হাজির হন নুরুল ইসলাম। ৯৯৯-নম্বরে কল করে অভিযোগ করেন তিন ভাই মিলে তার বাবাকে হত্যা করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।
জালাল উদ্দিনের বড় ছেলে তারা মিয়া জানান, তার মেজো ভাই মাদকাসক্ত। তার স্ত্রী-সন্তানও তাকে ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে গেছে। নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাবার সম্পত্তির ওয়ারিশ দাবি করছিলেন। বাবা দিতে রাজি না হওয়ায় পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তিনি।
ঘিওর থানার ওসি রিয়াজুদ্দিন আহমেদ বিপ্লব জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সুরতহাল রিপোর্ট ও স্থানীয়দের তথ্যমতে জালাল উদ্দিন রিকশার ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। কিন্তু তার মেজো ছেলে নুরুল ইসলাম অভিযোগ করছেন তার ভাইয়েরা বাবাকে হত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।